মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের অঙ্গীকার

0
68

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন এবং বলেছেন, “এখন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের জীবনে একবারই সুযোগ এসেছে পুরনো দ্বন্দ্ব এবং তীব্র ঘৃণাকে পেছনে ফেলার। আমাদের ভবিষ্যৎ অতীত প্রজন্মের লড়াই দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে না।”

কাতারের দোহা, মিসর ও তুর্কি নেতাদের সঙ্গে ‘গাজা যুদ্ধবিরতি’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই হামাস ২০ জন জীবিত জিম্মি এবং চারজন মৃত জিম্মির মৃতদেহ ইসরায়েলে ফিরিয়ে দেয়। চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব দেশগুলো এতে স্বাক্ষর করে।

মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসি-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ সম্মেলনের স্মারকলিপিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে:

স্থায়ী শান্তি এমন হবে যেখানে ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলি উভয়ই তাদের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষিত, নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাদের মর্যাদা সমুন্নত রেখে উন্নতি করতে পারবে।

ভবিষ্যতের যেকোনো বিরোধের সমাধান হবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে, শক্তি প্রয়োগ বা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মাধ্যমে নয়।

মধ্যপ্রাচ্য আর দীর্ঘ যুদ্ধ, অচলাবস্থায় আটকে থাকা আলোচনা, কিংবা অসম্পূর্ণ ও বাছাই করে বাস্তবায়িত চুক্তির বোঝা বহন করতে পারে না।

ট্রাম্প বলেন, “এই পর্যায়ে আসতে ৩ হাজার বছর লেগেছে… এবং এটিও টিকে থাকবে।” তিনি বিশ্বাস করেন, এই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে “লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রার্থনা অবশেষে সাড়া পেয়েছে।”

ট্রাম্প পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হিসেবে দুই বছরের যুদ্ধের পর গাজা পুনর্নির্মাণের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়ে গেছে এবং আপনি জানেন, পর্যায়গুলি একে অপরের সঙ্গে কিছুটা মিশে গেছে। আপনি গাজার দিকে তাকান, এটির অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন।” যদিও দ্বিতীয় ধাপের বিষয়ে তিনি খুব বেশি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। এছাড়া কাতার, মিশর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তুরস্কের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনের আয়োজন হয়েছিল দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের আহ্বান পুনর্নবীকরণের লক্ষ্যে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আগে বিশ্ব নেতারা ‘শান্তি ২০২৫’ লেখা একটি সাইনবোর্ডের সামনে ছবি তুলতে পোজ দেন।