আফগানিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং সহিংস সীমান্ত সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে পাকিস্তান করাচির বন্দরগুলো থেকে আফগান ট্রানজিট ট্রেডের (Afghan Transit Trade) আওতায় পণ্য পরিবহন কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে।
ফেডারেল বোর্ড অফ রেভিনিউ (এফবিআর)-এর নির্দেশে বন্দর টার্মিনালগুলো ইতোমধ্যে আফগান ট্রানজিট ট্রেডের জন্য যানবাহনে বোঝাই করা কনটেইনারগুলো নামানো শুরু করেছে।
করাচির কাস্টমস হাউসের ট্রানজিট ট্রেড সদর দপ্তরে মহাপরিচালক (ডিজি)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে এই উত্তেজনার মূল কারণ হলো— পাকিস্তানবিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি আরও প্রকট হয়েছে।
গত সপ্তাহে তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং আফগান তালেবানের সশস্ত্র সদস্যদের জড়িত থাকার ঘটনায় আফগান সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মরক্ষামূলক পাল্টা আক্রমণের পর সংঘর্ষ শুরু হয়।
এই সংঘর্ষের সময় পাকিস্তান আফগান ভূখণ্ডে অবস্থিত তালেবান ঘাঁটি, পোস্ট, উগ্রপন্থিদের প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং সমর্থন নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভুল হামলা ও অভিযান চালায়। দাবি করা হয় যে, এসব অভিযানে দুই শতাধিক আফগান তালেবান ও সহযোগী নিহত হয়েছে।
এ সপ্তাহেও নতুন করে লড়াই শুরু হলে পাকিস্তান আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে গুরুত্বপূর্ণ তালেবান অবস্থানে আরও নির্ভুল হামলা চালায়। তবে, আফগান তালেবান সরকারের অনুরোধে গতকাল বুধবার উভয় পক্ষ ৪৮ ঘণ্টার একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
কাস্টমস জেনারেল অর্ডার অনুযায়ী, আফগান ট্রানজিট ট্রেড স্থগিতের কারণ হিসেবে কোয়েটা ও পেশোয়ারের কাস্টমস স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত কনটেইনার রাখার মতো আর জায়গা না থাকাকেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সমস্ত টার্মিনালকে ইতিমধ্যেই বোঝাই করা কনটেইনারগুলো নামিয়ে ফেলতে, আফগান ট্রানজিট গেট পাস বাতিল করতে এবং পরিবহন বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
করাচি বন্দর ও কাসিম বন্দরের সব টার্মিনাল আফগান ট্রানজিট ট্রেডের ক্লিয়ারেন্স কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, সাউথ এশিয়া পাকিস্তান টার্মিনাল-এ শত শত ট্রাকবোঝাই ট্রানজিট কনটেইনারের দীর্ঘ সারি পড়ে আছে। আরও বহু কনটেইনার কোয়েটা ও পেশোয়ারের পথে আটকে রয়েছে। চালকেরা সীমান্ত পুনরায় খুলে দেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।