জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ একরকম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেডের জন্য ব্যবহৃত ‘রোড ব্লকার’ একত্রিত করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সেচ ভবনের সামনে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে তৈরি করা অস্থায়ী তাঁবুতেও আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এছাড়াও আগুন দেওয়ার স্থলে প্রচুর পরিমাণ আসবাবপত্র ও সিরামিক্সের থালা-বাসনও ভাঙচুর করা হয়েছে। বর্তমানে মানিক মিয়া এভিনিউ ও মিরপুর সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে সরিয়ে দিয়েছে এবং এখন তারা আসাদগেটে অবস্থান করছেন। আসাদগেটের ওপারে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি এখন থমথমে রয়েছে। মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পুরোটা এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। আন্দোলনকারী জুলাই যোদ্ধাদের একটি গ্রুপ আড়ংয়ের দিকে এবং অন্য একটি গ্রুপ খামার বাড়ির দিকে অবস্থান করছে। পুলিশ থেমে থেমে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ছে।
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ছাত্র-জনতাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং জুলাই আহত বীর হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানসহ তিন দফা দাবিতে সকাল থেকেই জুলাই যোদ্ধারা সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থান নেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ সনদে তাদের স্বীকৃতি থাকবে জানিয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও আন্দোলনকারীরা অবস্থান অব্যাহত রাখেন। পরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সংসদ ভবন এলাকা থেকে সরিয়ে দিলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।