মাদরাসা ছাত্রীকে গণধর্ষণ: জবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ

0
57

গাজীপুরের মৌচাকে সনাতন ধর্মাবলম্বী জয় কুমার দাস ও অন্যান্যদের সহযোগিতায় মাদরাসা ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় বিচার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি প্রধান ফটক ও বাহাদুর শাহ পার্ক অতিক্রম করে বিশ্বজিৎ চত্বরে এসে শেষ হয়।

বিক্ষোভকালে শিক্ষার্থীরা ‘ফাঁসি ফাঁসি, ফাঁসি চাই, ধর্ষকের শাস্তি চাই’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘ধর্ষকের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’ এবং ‘আমার বোন ধর্ষিত কেন, ইন্টেরিম জবাব দে’ সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন:

ফেরদৌস শেখ (মুখ্য সংগঠক, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ জবি শাখা): তিনি ধর্ষণকে ‘মানবতার প্রতি এক নির্মম আঘাত’ এবং ‘সভ্য সমাজের বিবেকের ওপর গভীর কলঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এ অপরাধের কোনো ক্ষমা বা আপস নেই, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তার কঠোরতম বিচারই একমাত্র উপযুক্ত শাস্তি। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতা ভাঙার এবং সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় স্তরে একসাথে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

একেএম রাকিব (সভাপতি, জবি ছাত্র অধিকার পরিষদ): তিনি গাজীপুরের ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত নির্মম’ বলে উল্লেখ করেন এবং রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারকে ‘উদাসীন’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে প্রায় চার শতাধিক শিশু ধর্ষণ ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে এবং এই সরকার জনগণের সরকার হতে পারেনি, বরং ধর্ষকের সরকারে পরিণত হয়েছে। তিনি অবিলম্বে ধর্ষকের ফাঁসির ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

রিয়াজুল ইসলাম (সভাপতি, জবি ছাত্র শিবির): তিনি বলেন, গাজীপুরের এই নিকৃষ্ট ঘটনা সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন যে, মাদরাসার শিক্ষার্থী নির্যাতিত হলে বা মসজিদের ইমাম নির্যাতনের শিকার হলে ‘সুশীল সমাজ ও মিডিয়া পাড়া চুপ থাকে’, কিন্তু সাধারণ ঘটনা ঘটলে তারা হইচই ফেলে দেয়। তিনি এই ‘সুশীলতা বন্ধ’ করার আহ্বান জানিয়ে অবিলম্বে ধর্ষকের ফাঁসির দাবি জানান।