রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। দুপুরে লাগা এই আগুন পাঁচ ঘণ্টা পরও নেভেনি। এতে দেশের প্রধান বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। নামতে না পেরে ফ্লাইটগুলো অন্য বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়েছে।
দুপুর আড়াইটার দিকে কার্গো ভিলেজে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, ১৩টি ফায়ার স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে। এছাড়া কাছ থেকে আগুন নেভাতে ‘রিমোট কন্ট্রোল ফায়ার ফাইটিং রোবট’ আনা হয়েছে। এই রোবট মানুষের সাহায্য ছাড়াই খুব কাছ থেকে আগুনে পানি নিক্ষেপ করতে পারে এবং যেখানে আগুনের শিখা রয়েছে সেখানেও পানি দিতে সক্ষম।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কার্গো সেকশনে অগ্নিনির্বাপণে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুটি ফায়ার ইউনিট এবং নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনী কাজ করছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-পরিচালক মো. আশিকউজ্জামান জানান, বিমানবন্দরে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রায় এক হাজার আনসার সদস্য উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন। কর্তব্যরত অবস্থায় এখন পর্যন্ত ২৫ জন আনসার সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তায় বিজিবির দুই প্লাটুন সদস্য কাজ করছেন।
আগুনে বিমানবন্দরের আকাশ কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেছে। পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার দূর থেকে এই ধোঁয়া দেখা যাচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণে এখন পর্যন্ত নয়টি ফ্লাইট ঢাকায় নামতে না পেরে চট্টগ্রাম ও সিলেটে গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটটি এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে।
বিমানবন্দরের পোস্ট অফিস ও হ্যাঙারের মাঝামাঝি স্থানে কার্গো ভিলেজের যে অংশে আগুন লেগেছে, সেখানে আমদানি করা পণ্য মজুত রাখা হয়। কীভাবে আগুন লেগেছে বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত—তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষ জানাতে পারেনি।