অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একই পরিবারের ১১ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭ শিশু ও ৩ নারী রয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় আবু শাহবান পরিবারের বেসামরিক একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলা আঘাত হানলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, আট দিন আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির এটিই সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন। সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল নিশ্চিত করেছেন যে, কোনো ধরনের সতর্কবার্তা ছাড়াই ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ইসরায়েল এখনো নিরীহ বেসামরিক মানুষের রক্তপিপাসু।
এদিকে, হামাস এই ঘটনাকে “নৃশংস গণহত্যা” আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, আবু শাহবান পরিবারকে অকারণে এবং অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামাস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলতে চাপ প্রয়োগ করে।
গাজার মিডিয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে শনিবার পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলার পর রাফা সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, যা মানবিক ত্রাণ সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও বিশ্বাসযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে হামাসের বিরুদ্ধে গাজার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। তবে ইসরায়েলের এই সাম্প্রতিক হামলার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।।