জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং ছোট ডানঘেঁষা দল জাপান ইনোভেশন পার্টি (জেআইপি বা ইশিন) একত্রে জোট সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই জোট গঠিত হলে এলডিপির নবনির্বাচিত নেত্রী সানায়ে তাকাইচির দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পথ খুলে যাবে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
কিয়োদো সংবাদ সংস্থা রোববার (১৯ অক্টোবর) জানিয়েছে, এলডিপি নেতা সানায়ে তাকাইচি ও জেআইপি প্রধান হিরোফুমি ইয়োশিমুরা আগামীকাল সোমবার (২০ অক্টোবর) জোট সরকার গঠনের চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন।
এর আগে এ মাসের শুরুতে তাকাইচি ক্ষমতাসীন এলডিপির নেতা নির্বাচিত হলেও, তার নেতৃত্বাধীন পূর্বের জোট সরকার ভেঙে যাওয়ায় তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রচেষ্টা ভেস্তে গিয়েছিল। এর পর থেকে এলডিপি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল, যার ফলস্বরূপ এখন জেআইপি-র সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাকাইচির প্রধানমন্ত্রিত্বের সম্ভাবনা আবারও জোরদার হয়েছে।
জাপানের প্রভাবশালী দৈনিক ইয়োমিউরি শিমবুনও জানিয়েছে, সোমবারের বৈঠকের পর তাকাইচি ও ইয়োশিমুরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। অন্যদিকে, জেআইপি আজ ওসাকায় নির্বাহী বোর্ডের বৈঠক করবে এবং একই দিনে পার্লামেন্ট সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ সভায় এলডিপির সঙ্গে চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।
এলডিপির দীর্ঘদিনের সহযোগী দল কোমেইতো ২৬ বছর পর সরকার থেকে সরে দাঁড়ালে জাপানে নতুন জোট সরকার গঠনের আলোচনা শুরু হয় এবং দেশ একটি রাজনৈতিক অচলাবস্থায় পড়ে।
এলডিপি ও জেআইপি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে জোট বাঁধে, তবে সানায়ে তাকাইচি মঙ্গলবারেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতে পারেন। তবে, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ক্ষেত্রে দুই দলের জোটের এখনো দুটি আসনের ঘাটতি রয়েছে। যদি প্রথম ধাপের ভোট দ্বিতীয় দফায় গড়ায়, তবে তাকাইচিকে শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে বেশি পার্লামেন্ট সদস্যের সমর্থন পেতে হবে।
এই জোট সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাপান সফরের মাত্র কয়েক দিন বাকি। ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ায় বার্ষিক এশিয়া–প্যাসিফিক ইকোনমিক কো–অপারেশন (অ্যাপেক) সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে জাপান সফরে যাবেন।