মূল বেতনের ৫% বা সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা করল সরকার, প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

0
43

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা বাড়িয়ে মূল বেতনের ৫ শতাংশ অথবা সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। আজ রোববার (১৯ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের উপসচিব মিতু মরিয়ম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, “সরকারের বিদ্যমান বাজেটের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২ হাজার) প্রদান করা হলো।” ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে সব আর্থিক বিধিবিধান মেনে চলতে হবে এবং কোনো অনিয়ম হলে বিল পরিশোধকারী কর্তৃপক্ষকে দায়ী থাকতে হবে বলেও আদেশে জানানো হয়েছে।

সরকারের এই নতুন ভাতার হারকে প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকেরা।

এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, “শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার সময়ই আমরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি।”

গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) আলোচনার পর শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এই নতুন ভাতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারীরা তখন থেকেই তা প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।

শিক্ষকদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ দুপুর ১২টায় শিক্ষা ভবন অভিমুখে থালা-বাটি নিয়ে ‘ভুখা মিছিল’ করার কথা ছিল। তবে সদস্যসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজী জানান, দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠকের কথা থাকায়, ভুখা মিছিলটি বেলা ৩টায় শুরু হবে।

শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্তমানে নিম্নলিখিত দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন করছেন:

১. বাড়িভাড়া ভাতা: মূল বেতনের ২০ শতাংশ। ২. চিকিৎসা ভাতা: ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করা। ৩. এমপিওভুক্ত কর্মচারীদের উৎসব ভাতা: মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সরকার বাড়িভাড়া ভাতা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করেছিল। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেই শিক্ষক-কর্মচারীরা ১২ অক্টোবর থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব, শহীদ মিনার, সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ ও শাহবাগ মোড় অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি পালন করছেন। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পান, কিন্তু মূল বেতনের সঙ্গে তারা ১ হাজার ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া ভাতা (যা এখন ২ হাজার টাকা বা ৫%) এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। এছাড়া, তারা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে বছরে দুটি উৎসব ভাতা পান।