নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির জন্য নির্বাচন কমিশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক 

0
51

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আজ সোমবার (২০ অক্টোবর, ২০২৫) নির্বাচন কমিশন (ইসি) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা করেছে। ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সকাল সাড়ে ১০টায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়:

  • ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।

  • নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও কার্যক্রমের সংহতি বিধান।

  • ভোটের সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা।

  • অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

  • এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ।

  • বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

  • ভোটগ্রহণের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা।

বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে চার নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারি ও ন্যায়নিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে, ইসি বিভিন্ন অংশীজন যেমন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা করেছে। এছাড়া, ইসি আগামী ২২ অক্টোবর মাঠ প্রশাসনের সঙ্গেও একটি সমন্বয় সভা করবে বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম গত ১৯ অক্টোবর সিলেটে এক অনুষ্ঠানে জানান, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং রমজানের আগেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।

উল্লেখ্য, গত বছর ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশে নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এই সরকার বিভিন্ন সংস্কারের পর একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।