আয়বহির্ভূত প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মহির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ সোমবার (২০ অক্টোবর, ২০২৫) দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিগগিরই আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার ৫২৯ টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ৪৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মহিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে।
তদন্তে দেখা গেছে, মহিউদ্দিন আহমেদ মহির মোট সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ১২ লাখ ৫৩ হাজার ২১৩ টাকা, যেখানে তিনি সম্পদ বিবরণীতে ঘোষণা দিয়েছিলেন ৩ কোটি ৯৭ লাখ ৭৯ হাজার ৩৩৩ টাকার। তিনি প্রায় ৪৬ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ কোটি ২১ লাখ ৪ হাজার ৬৭৩ টাকা। এর বিপরীতে তার বৈধ আয় পাওয়া গেছে মাত্র ৬ কোটি ৬৫ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৪ টাকা। এই হিসাবেই তার ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার ৫২৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অবৈধভাবে অর্জিত অর্থকে ব্যবসার আড়ালে বৈধ করার অপচেষ্টা করেন বলেও দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে।
দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মহিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে, গত বছরের ১৬ অক্টোবর ২ কোটি ৭০ লাখ ৬৩ হাজার ৯৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল দুদক।
মহিউদ্দিন আহমেদ মহি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাবেক সহসভাপতি এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে আছেন।