সালমান শাহ হত্যা মামলা: ২৯ বছর পর হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ আদালতের

0
43

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যুর ২৯ বছর পর এটিকে হত্যা মামলা হিসেবে দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এই আদেশ দেন। এদিন চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার মা নীলা চৌধুরীর রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান জানান, আদালত পিবিআইয়ের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং আসামিদের অব্যাহতি আদেশ রহিত করেছেন। একই সঙ্গে সালমান শাহর বাবা কমর উদ্দিনের মূল অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী ওরফে ফরহাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রমনা মডেল থানা পুলিশকে মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনজীবী আবিদ হাসান আরও বলেন, রিজভী ওরফে ফরহাদ নামে এক আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন, যেখানে সালমানকে কীভাবে হত্যা করা হয়, তা উঠে আসে।

দীর্ঘদিনের আইনি প্রক্রিয়া:

মৃত্যু ও প্রাথমিক মামলা: ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে রমনা মডেল থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন।

হত্যার অভিযোগ: ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই কমরউদ্দিন চৌধুরী অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান। আদালত তখন সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

তদন্ত প্রতিবেদন:

সিআইডি (১৯৯৭): আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে বলে, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেছিলেন।

বিচার বিভাগীয় তদন্ত (২০১৪): দীর্ঘ ১১ বছর পর দাখিল করা প্রতিবেদনেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।

পিবিআই (২০২০): চার বছর তদন্তের পর পিবিআই চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলে, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ এবং স্ত্রী সামিরা হকের কারণে মাকে ছেড়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন।

মামলা চালিয়ে যাওয়া: সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলাটি চালিয়ে যান। তিনি পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন এবং ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ছেলেকে হত্যার অভিযোগ তোলেন।

রিভিশন আবেদন: ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দিলে, নীলা চৌধুরীর পক্ষ থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়। ২০২২ সালের ১২ জুন আদালত রিভিশন আবেদন গ্রহণ করেন এবং সম্প্রতি শুনানি শেষে আজ চূড়ান্ত আদেশ দেওয়া হলো।