তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি শুরু করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ড. শরীফ ভুঁইয়া, আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছিল, এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার মামলাটির শুনানি শুরু হয়।
উল্লেখ্য, শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ মন্তব্য করেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিয়ে সাময়িক সমাধান দিতে চায় না আপিল বিভাগ। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থায় একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চায় আদালত, যাতে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত না হয়।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিলে তা কখন থেকে কার্যকর হবে—এ প্রশ্নও আদালত থেকে তোলা হয়। এর জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গত দেড় দশকে জনগণ শাসনের পরিবর্তে নানা নিপীড়ন ও অবিচারের শিকার হয়েছে। বিচারহীনতা, গুম-খুন এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের কারণে জনগণ আজ পরিবর্তন চায়। তিনি বলেন, “জনগণের এই ক্ষমতাকে অবজ্ঞা করা হলে তা বিপ্লবে রূপ নিতে পারে।”
১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত হয়। কিন্তু ১৯৯৮ সালে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হয়। ২০০৪ সালে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বৈধ ঘোষণা করলেও, পরবর্তীতে ২০০৫ সালে আপিল বিভাগে আপিল করা হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয় এবং ৩ জুলাই গেজেট প্রকাশিত হয়, যার ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।
এরপর আওয়ামী লীগের অধীনে তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দলটির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার দাবি জোরালো হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। পরবর্তীতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন একই ধরনের আবেদন দাখিল করেন।
সবগুলো আবেদন একত্রে নিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি শুরু হয় মঙ্গলবার।