বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শ নিয়েই তার দল দেশের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। তিনি বলেন, বিএনপি কোনো বিভাজনে বিশ্বাসী নয় এবং অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ে তোলাই তাদের দর্শন।
সোমবার (২০ অক্টোবর, ২০২৫) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা সোমনাথ দে, কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ও সোমেন সাহা-এর নেতৃত্বে ৫০ জন বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তার দল সব ধর্ম, মত ও পেশার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, খালেদা জিয়া ২০১৬ সালেই ‘রেইনবো স্টেট’ (বহু বর্ণের রাষ্ট্র) গঠনের বিষয়ে বলেছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, দেশে অনেক বিভাজন ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে ফেলেছে। তবে তিনি মনে করেন, মানুষ প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে চায় না, বরং ঐক্যের রাজনীতি সৃষ্টি করাই এখন মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও উল্লেখ করেন: “জাতিগত অবস্থান, ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং বিভিন্ন কারণে দেশে অনেক বিভাজনের সৃষ্টি করা হয়েছে। এ অবস্থা থেকে অনেকেই ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছে।”
তিনি বর্তমানে বাইরের কিছু দেশ মিডিয়া ব্যবহার করে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও দাবি করেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন: “আমরা বলি ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম এবং ২৪-এ একটি নতুন সুযোগ এসেছে নতুন করে বাংলাদেশ তৈরি করার। আমরা সব সম্প্রদায় এই ভূখণ্ডে একসঙ্গে বসবাস করতে চাই এবং সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।”
তিনি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং বলেন, সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বিএনপি আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।