কক্সবাজারে দুই শিশুকে অপহরণ ও হত্যায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ নারীসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

0
71

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় সহোদর দুই শিশুকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিন নারীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওসমান গণি এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (এসপিপি) মীর মোশারফ হোসেন টিটু।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— গর্জনিয়া বড়বিল এলাকার জাহাঙ্গীর আলম, আবদু শুক্কুর, আলমগীর হোসেন ওরফে বুলু, মিজানুর রহমান এবং মো. শহীদুল্লাহ।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— আবদুল মজিদ বদাইয়া, ফাতেমা খাতুন, রাশেদা খাতুন ও লায়লা বেগম।

মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি বিকেলে রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল এলাকার দোকান কর্মচারী মো. ফোরকানের দুই ছেলে— হাসান শাকিল (১০) ও হোসেন কাজল (৮)—কে পাখির ছানা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে একই এলাকার আবদু শুক্কুরের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বাধীন চক্র।

ওই রাতে শিশুদের মুক্তির বিনিময়ে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের তল্লাশিতে দুই দিন পর ১৯ জানুয়ারি রাতে স্থানীয় জালালের ফলের বাগানের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়।

পরদিন নিহতদের বাবা মো. ফোরকান বাদী হয়ে রামু থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পুলিশ দ্রুত নয়জনকে গ্রেফতার করে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেন, মুক্তিপণ না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে দুই শিশুকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ প্রথমে ড্রামে লুকিয়ে পরে খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মীর মোশারফ হোসেন টিটু জানান, নয় বছর ধরে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া চলে। সাক্ষ্য-প্রমাণে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি তাদের জরিমানাও করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন, বাকিরা পলাতক। তবে অভিযুক্ত মোকারমা সুলতানা পুতুকে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।