চীনের ওপর ১৫৫% শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

0
51

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে চীনের সঙ্গে একটি ‘ন্যায়সঙ্গত’ চুক্তি করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, চীন যদি এই চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে দেশটির পণ্যের ওপর ১৫৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করা হবে।

সোমবার (২০ অক্টোবর, ২০২৫) ওয়াশিংটনে অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করে বলেন: “আমরা চীনের সঙ্গে একটি ন্যায্য বাণিজ্যিক চুক্তি করতে চাই এবং আমি আশা করছি, (চীনের) প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসবেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আপনারা (সাংবাদিকরা) উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করছি। এটা দারুণ একটা ব্যাপার হবে।”

তবে চীন যদি সমঝোতায় আগ্রহী না হয়, সেক্ষেত্রে ওয়াশিংটন কী পদক্ষেপ নেবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন:

“যদি তারা একটি ন্যায্য চুক্তিতে সম্মত না হয়, তাহলে চীনা পণ্যের ওপর ১৫৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। হয় তারা সমঝোতায় আসবে, নয়তো উচ্চ শুল্ক দিতে বাধ্য থাকবে। বিশ্বের অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অন্যায্য ফায়দা লুটছে। এটা বন্ধ করতে হবে।”

২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার ওপর জোর দিয়ে আসছেন।

গত আগস্ট মাসে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘শুল্কযুদ্ধ’ শুরু হয়েছিল। ওই মাসে ট্রাম্প চীনের ওপর ধার্যকৃত রপ্তানি শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে ১৪৫ শতাংশে উন্নীত করেন। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীনও মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ১২৫ শতাংশে বাড়িয়েছিল।

যদিও পরে ওই মাসেই বেইজিং ও ওয়াশিংটন উভয়েই পরস্পরের ওপর আরোপিত বর্ধিত শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করে। নভেম্বর মাসে সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হবে।

আগামী ৩১ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে শুরু হতে যাচ্ছে এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের সহযোগিতা সংস্থা এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশনের (এপেক) সম্মেলন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য সমঝোতার বিষয়টি আলোচনা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীন খাদ্য থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালসহ বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি করে থাকে।

সূত্র : এএফপি