নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, দেশে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে এবং এই পরিবেশকে আরও সুসংহত করতে ইসি সচিবালয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচনের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা।
গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রাথমিকভাবে পাঁচ দিনের পরিকল্পনা থাকলেও আলোচনায় নির্বাচনের আগে তিন দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর চার দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রাখার প্রস্তাব এসেছে। এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরে সচিব বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। সেনাবাহিনী মোতায়েন করবে ৯০ হাজার থেকে এক লাখ সদস্য এবং আনসার বাহিনী মোতায়েন করবে প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় লাখ সদস্য। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা অনুযায়ী নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে অবৈধ অস্ত্রের ৮৫ শতাংশ উদ্ধার করেছে এবং বাকি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কাজ নির্বাচনকালীন সময়ে সম্পন্ন করা হবে।
নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা বিষয়ে সচিব জানান, আলোচনায় ভোটকেন্দ্র, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার নিরাপত্তা, নির্বাচনী এলাকা ও সারাদেশের নিরাপত্তা, অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য অপব্যবহার প্রতিরোধ, বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা, পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, কালো টাকা নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচনী অফিসের কার্যক্রম সমন্বয় এবং পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় নির্বাচনী পরিবহন ও হেলিকপ্টার ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় ড্রোন ব্যবহার সাধারণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে। স্বরাষ্ট্র সচিব নিশ্চিত করেছেন যে, ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ, বডি-অন ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
সচিব আখতার আহমেদ উল্লেখ করেন, আজকের আলোচনা নির্বাচনকে আরও সুন্দর ও সুষ্ঠু করার একটি প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ ছিল এবং তাদের লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা।
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সভাপতিত্বে চারজন নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মহাপুলিশ পরিদর্শক এবং সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সচিব আরও বলেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনের নিরাপত্তা এবং ভোটগ্রহণের প্রতিটি ধাপের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে।