ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজির কারাবাস শুরু

0
69

ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি এখন বন্দি জীবন শুরু করেছেন। লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির কাছ থেকে নির্বাচনী তহবিল হিসেবে অবৈধ অর্থ গ্রহণের মামলায় আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। এর মধ্যে দুই বছর কার্যকর কারাবাস এবং তিন বছর স্থগিত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সারকোজি প্যারিসের কুখ্যাত লা সান্তে কারাগারে প্রবেশ করেন।

এই ঘটনা আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসে নজিরবিহীন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো ফরাসি প্রেসিডেন্ট কারাগারে গেলেন। এর আগে মাত্র দু’জন রাষ্ট্রপ্রধান—রাজা ষোড়শ লুই (১৭৯৩) এবং ফিলিপ পেতাঁ (১৯৪৫)—কারাগারে গিয়েছিলেন।

সারকোজি ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০৭ সালের নির্বাচনে তিনি লিবিয়ার নেতা গাদ্দাফির কাছ থেকে বিপুল অর্থ নিয়েছিলেন নির্বাচনী প্রচারের জন্য। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালত এই অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দেয়।

রায়ের পর সারকোজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, “আমি নির্দোষ, সত্য একদিন অবশ্যই জয়ী হবে। তারা একজন সাবেক প্রেসিডেন্টকে নয়, একজন নির্দোষ মানুষকে বন্দি করছে।”

কারাগারে প্রবেশের সময় শত শত সমর্থক সারকোজির বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান ও হাততালি দিয়ে সমর্থন জানান। তার ছেলে পিয়েরে জনতাকে বলেন, “দয়া করে কেবল ভালোবাসার বার্তা পাঠান, এর বেশি কিছু নয়।”

সারকোজিকে লা সান্তে কারাগারের আইসোলেশন উইংয়ে ৯ বর্গমিটারের একটি সেলে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে তাকে একাকী রাখা হয়েছে এবং বিশেষ ব্যবস্থায় তার খাদ্য ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।

রায়ের পর তিনি জানিয়েছেন, বন্দিজীবনে তিনি একটি বই লেখার পরিকল্পনা করছেন, যেখানে নিজের রাজনৈতিক জীবন, ফরাসি রাজনীতির অন্তরালের গল্প এবং বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন।

ফরাসি গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সারকোজির এই কারাবাস ফ্রান্সে আইনের শাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অনেক নাগরিক একে “ন্যায়বিচারের জয়” হিসেবে দেখছেন, যদিও সারকোজির সমর্থকরা একে “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলে দাবি করছেন।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, বিবিসি