নারায়ণগঞ্জে নিরাপত্তা প্রহরীকে ইট দিয়ে হত্যার ভিডিও ভাইরাল, গ্রেপ্তার ৪

0
93

নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় আবু হানিফ (৩০) নামের এক নিরাপত্তা প্রহরীকে ইট দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এদিকে, ঘটনার পর র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, খানপুর জোড়া পানি ট্যাংকির ভেতরে ৬ জন যুবক মিলে প্রহরী আবু হানিফের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইট দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করছেন। পাশে একটি শিশুও দাঁড়িয়ে ছিল। প্রাণভিক্ষা চাইলেও হানিফ হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পাননি। একপর্যায়ে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

নিহত আবু হানিফ বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার আবুল কালামের ছেলে। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে তিনি খানপুরের জিতু ভিলায় নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করতেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, গত ২০ অক্টোবর (সোমবার) দুপুরে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে কয়েকজন যুবক হানিফকে তার বাসা থেকে ধরে খানপুর জোড়া পানি ট্যাংকির ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে নির্মমভাবে ইট দিয়ে পেটানো হয়। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৯টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর পুলিশ ও র‍্যাব অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে বাহার (৩৬), সাইদুল ইসলাম (২৫), মুশফিকুর রহমান (২৯) ও অপু (২৫)-কে।

র‍্যাব-১১ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার গোলাম মোর্শেদ জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া এলাকা থেকে মামলার ৯ নম্বর আসামি অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপু খানপুর এলাকার হিরা মিয়ার ছেলে। তাকে কলাপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহতের ভগ্নিপতি ইব্রাহিম হোসেন দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মোহাম্মদ হাসিনুজ্জামান বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িত কয়েকজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’ তিনি জানান, নিহতের ছোট ভাই বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিশোরীকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।