ক্যারিবিয়ান সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির’ অভিযোগ মাদুরোর

0
42

ক্যারিবিয়ান সাগরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বানোয়াট যুদ্ধ পরিস্থিতি’ তৈরির অভিযোগ করেছেন।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত রণতরীটিকে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সর্বাধুনিক এই রণতরী ৯০টি পর্যন্ত যুদ্ধবিমান বহন করতে সক্ষম।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে মাদুরো বলেন, “তারা (যুক্তরাষ্ট্র) নতুন এক স্থায়ী যুদ্ধের বাহানা তৈরি করছে। একসময় তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে আর কোনো যুদ্ধে জড়াবে না। এখন তারা নিজেরাই বানোয়াট যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করছে।”

রণতরী, পারমাণবিক সাবমেরিন ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাঠানোর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। দেশটি বলছে, তাদের অভিযান মাদক পাচারকারীদের দমনের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ জানান, ক্যারিবিয়ান সাগরে শুক্রবার এক হামলায় ছয়জন ‘মাদক-সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন।

“ত্রেন দে আরাগুয়া নামের একটি অপরাধী সংগঠনের জাহাজে হামলা করা হয়েছিল,” বলেন তিনি। তবে এই হামলার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, এই অভিযান মাদক পাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ ও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যরা দাবি করেছেন, এই অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য মাদুরো সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি ও তাকে অস্থিতিশীল করা।

চ্যাথাম হাউজের লাতিন আমেরিকা বিষয়ক সিনিয়র ফেলো ড. ক্রিস্টোফার সাবাতিনি বিবিসিকে বলেন, “এটা মূলত সরকার পরিবর্তনের চাপ সৃষ্টি। তারা সম্ভবত সরাসরি আগ্রাসন করবে না, তবে এটি স্পষ্ট একটি সতর্ক সংকেত।”

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপের লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর ভেতরে ভয় সঞ্চার করা, যাতে তারা মাদুরোর বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

পেন্টাগন জানায়, রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের অধীনে থাকবে। এই কমান্ডের আওতায় রয়েছে মধ্য আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চল।

পেন্টাগন মুখপাত্র সিয়ান পারনেল বলেন, “অতিরিক্ত ফোর্স যুক্ত হওয়ায় মাদক পাচার প্রতিরোধে আমাদের সক্ষমতা আরও বাড়বে। স্থলভাগে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার সক্ষমতাও এতে জোরদার হবে।”

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বলেছেন, “আমরা এখন স্থলভাগের দিকেও তাকাচ্ছি, কারণ সাগর আমাদের নিয়ন্ত্রণে।”

সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে মাদক রুট ও কোকেন উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

বিমানবাহী রণতরীটি তিন দিন আগে ক্রোয়েশিয়ার উপকূলে দেখা গেছে। এর মোতায়েনের মধ্য দিয়ে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হলো— তবে একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে উত্তেজনাও বাড়ছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা