গাজা সিটির মেয়র ইয়াহিয়া আল-সাররাজ জানিয়েছেন, ইসরায়েলের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী প্রবেশ করতে না পারায় শহরের পুনর্গঠন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরানো ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণকাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, “গাজা সিটির পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন ও নতুন কূপ নির্মাণের জন্য অন্তত ২৫০টি ভারী যানবাহন এবং এক হাজার টন সিমেন্ট প্রয়োজন।” কিন্তু এত বিশাল চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি ট্রাক এলাকায় প্রবেশ করেছে বলে জানান তিনি।
আল-সাররাজ আরও বলেন, গাজাজুড়ে হাজার হাজার টন অবিস্ফোরিত ইসরায়েলি বোমা পড়ে আছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি গাজার আজ-জাওয়াইদা এলাকা থেকে জানিয়েছেন, এখনও অন্তত ৯,০০০ ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। কিন্তু নতুন করে আনা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম প্রধানত ইসরায়েলি বন্দিদের মৃতদেহ উদ্ধারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের উদ্ধারে নয়। তার ভাষায়, “ফিলিস্তিনিরা মনে করছেন, যতক্ষণ না সব ইসরায়েলি বন্দির মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ যুদ্ধবিরতির বাস্তব কোনো অগ্রগতি হবে না।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরায়েলি বন্দিদের অবস্থান নির্ধারণে সহযোগিতার জন্য হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেডের সঙ্গে বৈঠকের পর আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের গাড়ি রাফাহর দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছেছে।
ইসরায়েলি সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, বন্দিদের মৃতদেহ অনুসন্ধানের জন্য রেড ক্রস ও মিশরীয় উদ্ধার দলকে গাজা উপত্যকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইসরায়েল বর্তমানে তথাকথিত “হলুদ রেখা”র ভেতরে থাকা গাজার প্রায় ৫৮ শতাংশ এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখছে।
আম্মান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক নূর ওদেহ জানিয়েছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল দাবি করে আসছিল হামাস জানে বন্দিদের সব মৃতদেহ কোথায় রয়েছে। কিন্তু এখন ইসরায়েল নিজেই মিশরীয় উদ্ধারকারী দল ও ভারী যন্ত্রপাতিকে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ওই টানেল বা ভবনের নিচে পৌঁছানোর জন্য, যেখানে বন্দিদের হত্যা করা হয়। ওদেহ বলেন, “এই নীতিগত পরিবর্তনের পেছনে ইসরায়েলের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।”
বর্তমানে রেড ক্রস ও হামাস উভয়কেই ধ্বংসস্তূপের নিচে সম্ভাব্য কবরস্থান শনাক্তে সহায়তার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।