ক্যারিবীয় অঞ্চলে হারিকেন মেলিসার তাণ্ডব: জ্যামাইকা-হাইতি-ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে নিহত ৭

0
47

প্রবল শক্তি নিয়ে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে তাণ্ডব চালাচ্ছে হারিকেন মেলিসা। দ্বীপরাষ্ট্র জ্যামাইকায় বিধ্বংসী আঘাত হানার পর এটি এখন কিউবার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কিউবায় ইতোমধ্যে লাখো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝড়টির গতি কিছুটা কমে ক্যাটাগরি ৪ পর্যায়ে এলেও এর শক্তি এখনও বিধ্বংসী। মার্কিন জাতীয় হারিকেন কেন্দ্র (এনএইচসি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে জ্যামাইকার নিউ হোপ এলাকায় যখন ঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানে, তখন বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৯৫ কিলোমিটার, যা ক্যাটাগরি ৫ মাত্রার সমান।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এটিকে “শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়” বলে আখ্যায়িত করেছে।

ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি: জ্যামাইকা, হাইতি ও ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জ্যামাইকা ও হাইতিতে তিনজন করে এবং ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে একজন মারা গেছেন। ডমিনিকান প্রজাতন্ত্রে আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

মার্কিন হারিকেন কেন্দ্র সতর্ক করে জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম জ্যামাইকায় এখনো শক্তিশালী ঝড় বইছে। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

জ্যামাইকার পরিস্থিতি: মেলিসা বিপর্যয়কর আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে বলে আগেই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোন বিশেষজ্ঞ আন-ক্লেয়ার ফন্টানের মতে, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৭০০ মিলিমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জ্যামাইকার স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ডেসমন্ড ম্যাকেঞ্জি বলেছেন, তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিলেও ক্যাটাগরি ৫ মাত্রার ঝড়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকা প্রায় অসম্ভব। রেডক্রস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র জ্যামাইকাতেই প্রায় ১৫ লাখ মানুষ মেলিসার প্রভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

জ্যামাইকার রাজধানী কিংস্টনের স্থানীয় সাংবাদিক রোবিয়ান উইলিয়ামস বলেন, “প্রবল বাতাসে গাছপালা উপড়ে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। উদ্ধারকর্মীরা সড়ক পরিষ্কারে ব্যস্ত রয়েছেন।” দ্বীপে অবস্থানরত প্রায় ২৫ হাজার পর্যটককে নিরাপদে রাখতে হোটেলগুলো কম মূল্যে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস জানিয়েছেন, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশ সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে।

কিউবার দিকে মেলিসা: আল জাজিরার তথ্যমতে, মেলিসা এখন ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার বেগে কিউবার দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড়।

ধারণা করা হচ্ছে, বুধবারের মধ্যে এটি কিউবায় ক্যাটাগরি ৪ মাত্রার শক্তিতে আঘাত হানতে পারে। ইতোমধ্যে কিউবার উপকূলীয় অঞ্চল থেকে অন্তত ৬ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সান্তিয়াগোও রয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় হোলগুইন প্রদেশে ২ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হচ্ছে।

দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী এদুয়ার্দো মার্টিনেজ বলেছেন, “এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি। আমরা এমন কিছু আগে কখনও দেখিনি।”