ফিলিস্তিনের হেবরনে ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলিমদের জন্য বন্ধ, পুরোনো শহরে কারফিউ জারি করলো ইসরায়েল

0
40

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের পুরোনো এলাকায় মুসলিমদের জন্য ইব্রাহিমি মসজিদ (Abrahamic Mosque) বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। একইসঙ্গে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের ইহুদি উৎসব পালনের সুযোগ দিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর কারফিউ জারি করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাতে বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেবরনের পুরোনো শহর এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনিদের ওপর কারফিউ জারি করে রেখেছে এবং অবৈধ ইসরায়েলি বসতকারীদের ইহুদি ধর্মীয় উৎসব পালনের সুযোগ করে দিতে ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলিমদের জন্য বন্ধ করেছে বলে স্থানীয় কর্মীরা নিশ্চিত করেছেন।

হেবরন ডিফেন্স কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা আরেফ জাবের আনাদোলুকে জানান, শুক্রবার সকাল থেকে পুরোনো শহরের বিভিন্ন এলাকায় এই কারফিউ জারি রয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী পুরোনো শহরে প্রবেশের সামরিক চেকপয়েন্টগুলোও বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে।

কারফিউয়ের কারণে অনেক ফিলিস্তিনি বাসিন্দা নিজ ঘরে ফিরতে পারেননি এবং হেবরনের অন্য এলাকায় স্বজনদের বাড়িতে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। জাবের জানান, শুক্রবার রাত ও শনিবার সকাল— দুই দফায় শত শত অবৈধ বসতকারী ভারী সামরিক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পুরোনো শহরে প্রবেশ করে রাস্তায় “উসকানিমূলক” শোভাযাত্রা করেছে।

তিনি আরও বলেন, এই কারফিউ আসলে ইব্রাহিমি মসজিদের বাকি অংশ পুরোপুরি দখলে নেওয়ার এবং সেটি সিনাগগে রূপান্তরের ইসরায়েলি প্রচেষ্টার অংশ।

ফিলিস্তিনি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের শুরু থেকে প্রতিদিন ইব্রাহিমি মসজিদের সুক গেট বন্ধ রাখছে, পূর্ব দিকের প্রধান গেটও বন্ধ করে রেখেছে এবং এমনকি জানালাগুলোও ঢেকে দিয়েছে।

ইব্রাহিমি মসজিদ হেবরনের পুরোনো শহরে অবস্থিত এবং এটি এখন পুরোপুরি ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে। এই এলাকায় প্রায় ৪০০ অবৈধ বসতকারী থাকে এবং তাদের পাহারা দেওয়ার জন্য প্রায় ১৫০০ ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন রয়েছে।

১৯৯৪ সালে এক অবৈধ বসতকারীর হাতে ২৯ জন ফিলিস্তিনি মুসল্লি নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার পর ইসরায়েল মসজিদটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই ভাগে ভাগ করে দেয়। এর ৬৩ শতাংশ ইহুদিদের উপাসনার জন্য এবং বাকি ৩৭ শতাংশ মুসলিমদের জন্য বরাদ্দ। এমনকি মুসলিমদের জন্য বরাদ্দ অংশে মসজিদের আজান দেওয়ার ঘরটিও ইহুদিদের অংশে রয়েছে।

ইসরায়েলের একতরফা ব্যবস্থাপনায় বছরে ১০ দিন ইহুদি ধর্মীয় উৎসবের সময় মসজিদটি পুরোপুরি মুসলিমদের জন্য বন্ধ থাকে এবং ১০ দিনের ইসলামি উৎসবের সময় ইহুদিদের জন্যও মসজিদটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত পূর্ণ প্রবেশাধিকার আর বহাল রাখা হয়নি।