খুলনার লবণচরার টুটপাড়া দরবেশ মোল্লা গলিতে আলোচিত তিন খুনের মূল পরিকল্পনাকারী ফ্রান্স প্রবাসী শামীম আহমেদ হত্যাকারীদের সঙ্গে মাত্র ১ লাখ টাকায় চুক্তি করেছিলেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন। গত বুধবার গভীর রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর শুক্রবার তিনি ১৬৪ ধারায় এই জবানবন্দি দেন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহ এই তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, নিহত দুই শিশুর বাবা শেফার আহমেদের মামাতো ভাই শামীমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ১ একর ৬৯ শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। শামীম জাল দলিল তৈরি করে জমিটি দখলের চেষ্টা করেন এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ২০১৬ সালে তিনি ফ্রান্সে চলে যান। ২০২৩ সালে দেশে এসে অস্ত্র মামলায় কারাবন্দী হওয়া অবস্থায় স্থানীয় এক সন্ত্রাসী বাহিনীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর শেফারের পরিবারকে ‘শেষ করে দেওয়ার’ পরিকল্পনা করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, কয়েক মাস আগে দেশে ফিরে শামীম চুক্তির মাধ্যমে খুনি বাহিনীকে এক লাখ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ১৬ নভেম্বর দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে শামীমসহ ৬–৭ জন খুনি বাড়ির দেয়াল টপকে শেফার আহমেদের বাড়িতে প্রবেশ করে। খুনি তরিকুল ইসলাম তারেক প্রথমে শেফারের শাশুড়ি মহিতুন্নেছাকে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। এরপর একইভাবে শেফারের দুই সন্তানকেও হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তারা কিছুক্ষণ বাড়িতে অবস্থান করে চলে যায়।
ঘটনার তিন দিন পর শেফার আহমেদ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর তরিকুল ইসলাম তারেক গ্রেপ্তার হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন, যার ভিত্তিতে তাফসির হওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে শামীম ঘটনার পর ফোন বন্ধ রেখে বন্ধুদের ফোন ব্যবহার করছিলেন এবং দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন। বিমানবন্দর থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার হলেও অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই বাকিদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেএমপি’র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শিহাব করিম, ত ম রোকনুজ্জামান, মো. গোলাম মোর্শেদ এবং লবণচরা থানার ওসি হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম।