নরসিংদীতে যুবলীগ নেতা দেলুর প্রায় ৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ক্রোক করল দুদক

0
22

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজিরচরে যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলুর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় সাত কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে আদালতের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবক্কর সিদ্দিকীকে ক্রোক করা সম্পদের রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেয় আদালত।

ডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু, কাজিরচর গ্রামের বাসিন্দা মো. সুরুজ আলীর ছেলে। দুদকের গাজীপুর সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হক তাঁর বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত প্রায় ৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন। তদন্তে জানা যায়, এর মধ্যে ৬ কোটি ৮১ লাখ টাকার সম্পদ তিনি হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা করছেন। সম্পদ বেহাত হওয়ার আশঙ্কায় দুদকের আবেদনের পর নরসিংদীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ হুমায়ুন কবীর সম্পদ ক্রোক ও রিসিভার নিয়োগের নির্দেশ দেন।

ক্রোক করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে—

  • কাজিরচর গ্রামে ২৭ শতক জমির ওপর নির্মিত ২ হাজার ৩০৪ বর্গফুটের তিনতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি (মূল্য ৩ কোটি ১৩ লাখ ২৭ হাজার ৪৪ টাকা)

  • একই গ্রামে ৬ শতক জমির ওপর নির্মিত ৩ হাজার ৬৫০ বর্গফুটের পাঁচতলা ভবন (মূল্য ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮ হাজার ২৫৭ টাকা)

মোট ক্রোক হওয়া সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৬ কোটি ৮১ লাখ ৩৫ হাজার ৩০১ টাকা।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. এনামুল হক। উপস্থিত ছিলেন আরেক সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান, পলাশ ইউএনও মো. আবুবক্কর সিদ্দিকী, নরসিংদী দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সিনিয়র সদস্য হলধর দাসসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেলু ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হন। পরবর্তী সময়ে শীতলক্ষ্যা নদী ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের মাধ্যমে বিপুল অর্থসম্পদ গড়ে তোলেন। নিজের নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীও তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যা, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ তাঁর বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই তিনি এলাকা ছেড়ে পলাতক।

পলাশ ইউএনও মো. আবুবক্কর সিদ্দিকী বলেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুইটি ভবন ক্রোক করে রিসিভার হিসেবে আমি দায়িত্ব নিয়েছি। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই এই সম্পদ বেহাত বা বিক্রি হতে দেওয়া হবে না। ভবনে থাকা ভাড়াটিয়াদের দ্রুত সরে যেতে বলা হয়েছে।”