দক্ষিণ সুদানে নার্সিং স্কুলে বিমান হামলা, অন্তত ৪০ জন নিহত

0
30

দক্ষিণ সুদানের দক্ষিণ কর্দোফান অঞ্চলে ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। শনিবারের এ হামলার পর নিহতদের দাফনে অংশ নেওয়া দুই ব্যক্তি সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

হামলার লক্ষ্য ছিল কোমো গ্রাম। মানবাধিকার সংস্থা ‘এমার্জেন্সি লইয়ার্স’ জানায়, বিমান হামলাটি সরাসরি গ্রামটির একটি নার্সিং স্কুলে আঘাত হানে। এতে ডজন খানেক শিক্ষার্থীসহ বহু বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান।

হেইবান গ্রামের বাসিন্দা কাফি কালু এএফপিকে বলেন, “বিমান হামলার খবর পেয়ে সেখানে যাই। গিয়ে দেখি নার্সিং স্কুলে আগুন জ্বলছে। সবাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে এবং লাশ দাফন করছে। প্রায় ৪০ জনকে কবর দিতে হয়েছে।”

আরেক বাসিন্দা টিহ ইসা জানান, “আমরা ৪০টিরও বেশি কবর খুঁড়েছি। ঘটনা ছিল খুবই মর্মান্তিক।” তাদের ভাষ্য মতে, হামলার ধ্বংসযজ্ঞে পুরো গ্রাম শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সুদানি সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সেনাবাহিনী কখনো বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। তবে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে সেনাবাহিনীর হামলায় বারবার সাধারণ মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে।

এ অঞ্চলে দক্ষিণ সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এবং তাদের মিত্র সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট–নর্থ বর্তমানে দারফুর ও দক্ষিণ কর্দোফানের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও কৌশলগত অঞ্চলগুলো পুনর্দখলে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, শুধু নভেম্বর মাসেই দক্ষিণ কর্দোফানের ছোট ছোট গ্রাম থেকে নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। চলমান এই যুদ্ধ এখন পর্যন্ত লাখো মানুষের প্রাণ কেড়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষকে বাস্তুহারা করেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের বিমান হামলা ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত কেবল মানুষের প্রাণহানি বাড়াচ্ছে না, দক্ষিণ সুদানের সামাজিক কাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবকাঠামোকেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর চাপ, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও মানবিক সহায়তা ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে বলে তারা মনে করছেন।

তথ্যসূত্র : এএফপি