ফেসবুক চ্যাটে নির্বাচনবিরোধী বার্তা পাঠানোর অভিযোগে মিয়ানমারে ১ ব্যক্তি গ্রেপ্তার

0
61

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ব্যক্তিগত ফেসবুক মেসেঞ্জারে নির্বাচনবিরোধী বার্তা পাঠানোর অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফেসবুক চ্যাটের ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, জান্তা সরকারের প্রয়োগ করা নতুন আইনগুলো ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হরণ ও ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। জান্তা দাবি করছে, ডিসেম্বরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন দেশকে শান্তি ও গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে নেবে। তবে ক্ষমতাচ্যুত আইনপ্রণেতা, মানবাধিকার কর্মী ও জান্তাবিরোধী গেরিলারা নির্বাচনের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি সামরিক শাসন বৈধতার ‘নাটক’ ছাড়া আর কিছু নয়।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জান্তা সম্প্রতি নতুন আইন প্রণয়ন করেছে, যেখানে নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা বা প্রতিবাদের শাস্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড।

জান্তার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইয়াঙ্গুনের নিকটবর্তী বোগিওক গ্রামের ৫৮ বছর বয়সী খাইং সোয়ে (Khaing Soe) নামের এক ব্যক্তি ব্যক্তিগত মেসেঞ্জার চ্যাটে নির্বাচনবিরোধী বার্তা পাঠানোর অভিযোগে শুক্রবার গ্রেপ্তার হন। জান্তার দাবি, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত ও জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।

তবে কীভাবে ব্যক্তিগত মেসেঞ্জার আলাপচারিতায় প্রবেশ করা হলো—এ বিষয়ে জান্তার বিবৃতিতে কোনো ব্যাখ্যা নেই।

এ ছাড়া নির্বাচনবিরোধী পোস্ট ও নির্বাচনী বিলবোর্ড নষ্ট করার অভিযোগে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অন্তত ১১টি মামলা দায়ের হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের জাতীয় নির্বাচন ব্যাহত করার অভিযোগে এখন পর্যন্ত শতাধিক মামলা করেছে মিয়ানমারের সামরিক সরকার। এর মধ্যে কিছু মামলা এমন এলাকাতেও হয়েছে, যেখানে জান্তার নিয়ন্ত্রণ নেই এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রভাব শক্তিশালী।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স সতর্ক করেন, নির্বাচনের আগে ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে নজরদারি কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে মিয়ানমারের জান্তা।

মিয়ানমার দীর্ঘদিন সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। ২০১০ সালের নির্বাচনে অং সান সু চির দল এনএলডির বিজয়ের পর গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হলেও ২০২১ সালের অভ্যুত্থানে আবারও ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। সেই অভ্যুত্থানের পর থেকেই কারাবন্দি সু চির রাজনৈতিক দল এনএলডিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আসন্ন ২৮ ডিসেম্বর শুরু হতে যাওয়া দীর্ঘায়িত ভোটে এনএলডির প্রতীক থাকবে না।

সূত্র: এএফপি