কারাগারে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ইমরান খানের

0
59

কারাগারে বন্দি অবস্থায় মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) তার এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি কারাগারের পরিস্থিতি ও সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ তুলে ধরেন। এর আগের দিন রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তার বোন ড. উজমা খান সাক্ষাৎ শেষে এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানান।

ইমরান দাবি করেন, তাকে সম্পূর্ণ নির্জন সেলে রাখা হয়েছে যেখানে গত চার সপ্তাহে একজন মানুষের সঙ্গেও তার কথা হয়নি। তিনি বলেন, “আমাকে বাইরের জগত থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। কারা নিয়ম অনুযায়ী যে সাধারণ সুবিধাগুলো দেওয়ার কথা, সেগুলোও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে এবং তার স্ত্রীকে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের নির্দেশে “সাজানো মামলা”য় আটকে রাখা হয়েছে।

২০২২ সালে আস্থা ভোটে পদচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ইমরান খানের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হতে থাকে। ওই বছরের একবার গ্রেফতার হয়ে মুক্তি পেলেও, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

সেনাপ্রধান অসীম মুনিরকে সরাসরি আক্রমণ করে ইমরান বলেন, “মুনিরের নীতি পাকিস্তানের জন্য ধ্বংসাত্মক। তার নীতির কারণে সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।” তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমা শক্তিকে খুশি করার জন্য সেনাপ্রধান ইচ্ছাকৃতভাবে আফগানিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন।

ইমরান আরও বলেন, “প্রথমে আফগানদের হুমকি দেওয়া হয়, তারপর পাকিস্তান থেকে আফগান শরণার্থীদের বের করে দেওয়া হয়, ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে। এর ফলেই দেশে সন্ত্রাসবাদের উত্থান দেখা যাচ্ছে।”

সেনাপ্রধানকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ বলে অভিহিত করে পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নৈতিকতার দেউলিয়াত্ব পাকিস্তানের সংবিধান ও আইনের ভিত্তিকে পুরোপুরি ধসিয়ে দিয়েছে।”

ইমরান খানের এই অভিযোগগুলো নিয়ে পাকিস্তান সরকার বা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।