ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন-ইউরোপ সম্পর্কে ফাটল, ‘সভ্যতাগত ধ্বংসের ঝুঁকিতে’ ইউরোপ

0
24

ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নতুন ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ সম্ভাব্যভাবে ‘নির্ণায়ক পর্যায়ে’ পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে এ সম্পর্ক আরও ভঙ্গুর হয়ে উঠছে বলে উল্লেখ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে শান্তি চুক্তির উদ্যোগ নিচ্ছে, তা নিয়ে ইউরোপীয় নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই উদ্যোগ পশ্চিমাদের জন্য এক ধরনের “আত্মসমর্পণের” ইঙ্গিত বহন করে। ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর আস্থা কমেছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।

এদিকে গত ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের হালনাগাদ জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ইউরোপকে ঘিরে কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ৩৩ পৃষ্ঠার ওই নথিতে ইউরোপকে “সভ্যতাগত বিলুপ্তির ঝুঁকি” মোকাবেলার কথা বলা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, আগামী ২০ বছরের মধ্যে মহাদেশটি সংস্কৃতি, পরিচয়, জন্মহার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সংকটে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করছে। অভিবাসন নীতি নতুন উত্তেজনা তৈরি করছে; বাকস্বাধীনতার ওপর সেন্সরশিপ, রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর চাপ এবং জাতীয় আত্মপরিচয়ের সংকটও ইঙ্গিত করছে বৃহত্তর অস্থিরতার।

ব্লুমবার্গ উল্লেখ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ইউক্রেনকে আর্থিকভাবে সহায়তা দেওয়া চালিয়ে যেতে ইউরোপ সক্ষম হবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।

অন্যদিকে পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হালনাগাদ নিরাপত্তা কৌশল ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা MAGA মতাদর্শে প্রভাবিত। ইউরোপের জনপ্রিয় ডানপন্থী দলগুলোর সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের বাড়তি ঘনিষ্ঠতাও এতে স্পষ্ট। জার্মানি ও স্পেনের মতো দেশের ডানপন্থী গোষ্ঠীদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

ইউরোপ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সাম্প্রতিক এই তিক্ততা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত—দুই মহাদেশের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।