আমরা ২-৪টা আসনের জন্য কারও সঙ্গে জোট করব না: নুরুল হক নূর

0
58

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর বলেছেন, আমরা ২-৪টা আসনের জন্য কারও সঙ্গে জোট করব না। যদি জোট করি দেশের প্রয়োজনে-ন্যায্যতার বিচারে সম্মানজনক আসন সমঝোতার ভিত্তিতে হবে।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে দলীয় প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিতে স্থানীয় গণঅধিকার পরিষদ এই জনসভার আয়োজন করে।

নুরুল হক নূর বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগের আমলে শেখ হাসিনা আমাদের আসন অফার করেছিল, টাকা অফার করেছিল। কিন্তু আমরা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপোষ করিনি।’’

তিনি নিশ্চিত করেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি নজরুল ইসলামকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

নির্বাচনের সময় প্রসঙ্গে নূর বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশন তার কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ থাকায় যদি নির্বাচন পেছানোর কোনো প্রেক্ষাপট তৈরি হয়, সেটি হয়তো সরকার ও নির্বাচন কমিশন বিবেচনা করবে।

অন্যথায়, তিনি মনে করেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেন, ‘‘নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হোক আর এপ্রিলে হোক— নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদ এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে।’’ জোট করার ক্ষেত্রে জনসমর্থন আছে এমন আসন নিশ্চিত করেই আলোচনা হবে বলে তিনি জানান।

নুরুল হক নূর বলেন, ‘‘আমরা দেখতে পাই কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের নেতারা পুরনো ফ্যাসিস্টদের মতোই হুমকি-ধামকি ও আধিপত্য বিস্তারের অপরাজনীতি দেশব্যাপী কায়েম করতে চায়।’’

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জনগণের প্রতিবাদের মুখে ১৬ বছরের অপশাসন মুহূর্তের মধ্যেই চুরমার হয়ে গিয়েছিল এবং নেতারা নানা পথে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। কেউ জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাদের পরিণতিও তাই হবে। তিনি গণঅভ্যুত্থানের অংশীজন সকল রাজনৈতিক দলকে সংযত এবং সহনশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

নবীনগর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রঅধিকার পরিষদের সাবেক আহ্বায়ক সানাউল্লাহ হকসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।