ফরিদপুর কারাগারে হাজতির মৃত্যু

0
22

ফরিদপুর জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে জাকের মোল্লা (৫১) নামে এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

জাকের মোল্লা ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামের বাসিন্দা মৃত রাজ্জাক মোল্লার ছেলে। তিনি তিন ছেলের জনক ছিলেন।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, জাকের মোল্লাকে গত ১৮ অক্টোবর ভাঙ্গা থানায় দায়ের করা একটি মামলার সন্দেহজনক আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে আদালতের আদেশে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

জানা গেছে, এই মামলাটি ছিল নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সংসদীয় আসনের পুনর্বিন্যাসকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গা উপজেলায় বিক্ষোভ ও আন্দোলনের ঘটনায় দায়েরকৃত। আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন ফরিদপুর-৪ আসন থেকে কেটে ফরিদপুর-২ আসনে যুক্ত করার প্রতিবাদে আন্দোলন চলাকালে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনায় ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাদুজ্জামান বাদী হয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনকে প্রধান করে ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও অনেকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার সন্দেহজনক আসামি হিসেবে জাকের মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বুকে ব্যথাজনিত কারণে কারাগারে জাকের মোল্লা অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে তিনি মারা যান।

নিহত জাকের মোল্লার ছোট ভাই সোহাগ মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ‘‘আমার ভাই এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না। তারপরও তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়। অসুস্থ হওয়ার পরও আমাদের জানানো হয়নি। সকালে মৃত্যুর পরে আমাদের খবর দেওয়া হয়েছে।’’

ফরিদপুর কারাগারের সুপার নজরুল ইসলাম ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘‘স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে হাজতি জাকের মোল্লার। তিনি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে মারা যান। মৃতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’’