রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি

0
28

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর এলাকায় এক মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন—মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তার স্ত্রী সুর্বণা রায় (৬০)।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) গভীর রাতে নিজেদের বাড়িতেই তারা হত্যার শিকার হন। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঘর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেন। সাড়া না পেয়ে মই বেয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখতে পান—ডাইনিং রুমে যোগেশ চন্দ্র রায়ের এবং রান্নাঘরে সুর্বণা রায়ের রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী দীপক চন্দ্র রায় জানান, দীর্ঘ ৪০-৫০ বছর ধরে তারা যোগেশ রায়ের বাড়ি দেখাশোনা করেন। প্রতিদিনের মতো সকালে কাজ করতে গিয়ে ঘর থেকে কেউ বের না হওয়ায় তার সন্দেহ হয়। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তিনি আশপাশের লোকজনকে ডাকেন এবং পরে ভেতরে ঢুকে লাশ দুটি দেখতে পান।

স্থানীয়রা জানান, যোগেশ চন্দ্র রায় ২০১৭ সালে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসর নেন। তাদের দুই ছেলে—বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় জয়পুরহাটে থাকেন এবং ছোট ছেলে রাজেশ খান্না চন্দ্র রায় ঢাকায় পুলিশে চাকরি করেন। গ্রামে বসবাস করতেন যোগেশ ও তার স্ত্রী।

রবিবার সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন সেখানে ছুটে আসেন।

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।”

তারাগঞ্জ থানার এসআই মো. আবু ছাইয়ুম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুজনকেই মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে জোরালো তদন্ত চলছে।