বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানের পট পরিবর্তনের পরও দুর্নীতি পরিস্থিতির উন্নতি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ভিন্ন ভিন্ন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। টিআইবি বলছে, বিজয়ী পক্ষ প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতিতে জড়িয়েছে, আর দুদক চেয়ারম্যানের ভাষ্য— দুর্নীতিবাজদের রক্ষায় দেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ‘গডফাদার চক্র’ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে এই চিত্র।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সব সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে বিজয়ী পক্ষ। পাশাপাশি তিনি দুদক সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “দুর্নীতির অন্যতম অনুঘটক রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক শক্তি। এর সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা। এই ত্রিমাত্রিক আঁতাত ভেঙেছে বলে বলা যাবে না। এখানে অন্তর্বর্তী সরকারের যে সম্ভাবনাটা ছিল, সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।”
দুদক চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেন স্বীকার করেন যে, দুর্নীতিবাজদের লাগাম টেনে ধরতে চেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই। তবে তিনি বলেন, “সন্ত্রাসীদের যেমন গডফাদার থাকে, দুর্নীতিবাজদের রক্ষায়ও এক ধরনের গডফাদার প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তৈরি হয়ে যায়। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভালো রাখতে হলে সব জায়গায় সৎ লোক বসাতে হবে।”
অন্তর্বর্তী সরকার দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করার পর উঠে আসে যে, শেখ হাসিনা সরকারের ১৪ বছরে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে (গড়ে প্রতি বছর ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা)।
পাচারের অর্থ উদ্ধারে দুদকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তৎপরতা চালাচ্ছে। শেখ হাসিনা পরিবার ও সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টদের পাচার করা সম্পদ উদ্ধারে এরইমধ্যে ১৯টি দেশে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। তবে এখনো এই প্রক্রিয়া মূলত চিঠি চালাচালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বর্তমান কমিশনের দাবি, গত এক বছরে দেশ-বিদেশে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দসহ মামলা ও তদন্তের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।
রূপপুরসহ বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্তে নামলেও রাষ্ট্রীয় দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা এখনো অধিকাংশ দুর্নীতির কুলকিনারা করতে পারেনি। পটপরিবর্তনের পরও আলোচিত দুর্নীতি বা পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে দুদকের বড় কোনো সফলতা চোখে পড়েনি। জনমনে প্রশ্ন, দুদক কি এখনো ক্ষমতাধর মহলের প্রভাবে বন্দী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি বদলাতে দরকার সদিচ্ছা এবং প্রভাবমুক্তভাবে কাজের পরিবেশ।