ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ব শীর্ষ একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির আর্থিক খাতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে চীনা সরকার।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ওই কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া কর্মকর্তার নাম বাই তিয়ানহুই। তিনি চায়না হুয়ারং ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিংসের (সিএইচআইএইচ) সাবেক মহাব্যবস্থাপক ছিলেন।
এর আগে, চীনের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম পিপলস কোর্ট বাইয়ের আপিল খারিজ করে ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে আগের রায় বহাল রাখেন।
সিসিটিভি বলেছে, বাই তিয়ানহুই ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রকল্প অধিগ্রহণ এবং অর্থায়নে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে ১৫৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি ঘুষ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ আনা হয়। পরে আদালতে দীর্ঘ শুনানি শেষে ঘুষের দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
হুয়ারংয়ের আরও কয়েকজন নির্বাহীও দুর্নীতিতে জড়িত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। চীনে দুর্নীতির দায়ে সাধারণত দুই বছরের স্থগিতাদেশসহ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং পরে তা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। কিন্তু বাইয়ের ক্ষেত্রে সাজা স্থগিত করা হয়নি।
২০২৪ সালের মে মাসে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর তিয়ানজিনের একটি আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রথম রায় ঘোষণা করে। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও গত ফেব্রুয়ারিতে বাইয়ের প্রধান সাজা মৃত্যুদণ্ড বজায় রাখা হয়।
চীনের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম পিপলস কোর্ট মামলার রায় পর্যালোচনার পর ওই সাজা বহাল রাখার আদেশ জারি করে। বাইয়ের অপরাধ ‘‘অত্যন্ত গুরুতর’’ বলে আদালতের পর্যালোচনায় জানানো হয়।
সুপ্রিম কোর্টের বরাত দিয়ে সিসিটিভি বলেছে, বাই বিশাল পরিমাণ ঘুষ গ্রহণ করেছেন। তার অপরাধের মাত্রা গুরুতর এবং সামাজিক প্রভাব অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এই ধরনের কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের বড় ক্ষতি হয়েছে।
সিসিটিভি জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বাইয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মৃত্যুদণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি চীনা কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, চায়না হুয়ারং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিএইচআইএইচ। দেশটির অন্যতম বৃহৎ সম্পদ ব্যবস্থাপনা তহবিল হিসেবে মন্দঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে এই প্রতিষ্ঠানটি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দীর্ঘমেয়াদী দুর্নীতি দমন অভিযানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে হুয়ারং। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান লাই জিয়াওমিনকে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ২৫৩ মিলিয়ন ডলার ঘুষগ্রহণের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।