যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৩১ বাংলাদেশি দেশে ফেরত

0
29

যুক্তরাষ্ট্র আরও ৩১ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ব্র্যাক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তা ও পরিবহন সুবিধা প্রদান করে।

ফেরত আসা ব্যক্তিদের বেশিরভাগই নোয়াখালীর বাসিন্দা। এছাড়া সিলেট, ফেনী, শরীয়তপুর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার কর্মীরা রয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেন। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিককে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, ফেরত আসাদের মধ্যে সাতজন বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে ব্রাজিল গিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত হয়।

তিনি বলেন, ব্রাজিলে যাদের কাজের নামে পাঠানো হয়, অনেকেই পরে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে প্রতিজন ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করলেও শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় জড়িত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

শরিফুল হাসান আরও বলেন, ব্রাজিলে নতুন করে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার আগে সরকারকে আরও সতর্ক হতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসী ফেরত পাঠানোর অভিযান আরও জোরদার করায় চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর ঘটনা বাড়ছে।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ নভেম্বর ৩৯ জন এবং ৮ জুন ৪২ জন বাংলাদেশিকে বিশেষ ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো হয়। এছাড়া মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত একাধিক দফায় আরও অন্তত ৩৪ বাংলাদেশিকে দেশে পাঠানো হয়েছে।

মার্কিন আইনে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসকারী অভিবাসীদের আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে ফেরত পাঠানো যায়। আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে আইসিই দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে, যার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটের ব্যবহার বেড়েছে।