নির্বাচনকে স্মরণীয় করতে ইউএনওদের যা করতে বললেন প্রধান উপদেষ্টা

0
94

গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে “নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ” উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) জন্য একগুচ্ছ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচনকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখতে হবে, নইলে জাতি “মুখ থুবড়ে পড়বে”।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে সারাদেশের ইউএনওদের সঙ্গে নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সব জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারাও অনলাইনে অংশ নেন।

ইউএনওদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ইতিহাস আমাদের নতুন করে একটি সুযোগ দিয়েছে। অন্য জেনারেশন এই সুযোগ পাবে না। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব, আর যদি না পারি তাহলে জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে।”

আগের নির্বাচনগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিগত আমলে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, যেকোনো সুস্থ মানুষ বলবে—এটা নির্বাচন নয়, প্রতারণা হয়েছে।”

তার ভাষায়, আগামী নির্বাচন সাধারণ প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং “একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব”। “আমরা যদি ভালোভাবে এই দায়িত্বটি পালন করতে পারি, তাহলে আগামী নির্বাচনের দিনটি জনগণের জন্যও ঐতিহাসিক হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা ইউএনওদের উদ্দেশে কয়েকটি মূল নির্দেশনা দেন—

  • সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন: “আপনারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলেই সরকার তার দায়িত্বটি সফলভাবে পালন করতে সক্ষম হবে।”

  • শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর নির্বাচন: সদ্য যোগদান করা ইউএনওদের প্রতি তিনি বলেন, আপনাদের প্রধান দায়িত্ব হলো একটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর নির্বাচন আয়োজন করা।

  • সব কেন্দ্র পরিদর্শন: নিজ নিজ এলাকার সব পোলিং স্টেশন ঘুরে দেখা, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ, এলাকাবাসী ও সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

  • অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধ: যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৃজনশীল হওয়ার পাশাপাশি অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন।

  • নারীদের অগ্রাধিকার: নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রে তাদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

কর্মকর্তাদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও ভালো হয়”—অর্থাৎ মাঠ প্রশাসন ভালো কাজ করলে নির্বাচনও ভালো হবে।

ড. ইউনূস বলেন, “আগামী নির্বাচন ও গণভোট দুটিই জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন আগামী পাঁচ বছরের জন্য, আর গণভোট শত বছরের জন্য।”

গণভোটের মাধ্যমে “স্থায়ীভাবে বাংলাদেশকে পাল্টে দেওয়ার” সুযোগ তৈরি হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাওয়া হচ্ছে, তার ভিত্তি এই গণভোটের মাধ্যমে গড়ে তোলা যেতে পারে।

ভোটারদের সচেতন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ভোটারদের বোঝাতে হবে যে আপনারা মন ঠিক করে আসুন—‘হ্যাঁ’-তে দেবেন নাকি ‘না’-তে ভোট দেবেন—মন ঠিক করে আসুন।”

শিগগিরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ইউএনওদের উদ্দেশে বলেন, “নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন, কীভাবে, কোন কাজটি করবেন—তার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি এখন থেকেই নিন।”

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।