‘রাজস্ব আয় বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই, উগান্ডার চেয়েও পিছিয়ে আমরা’ — এনবিআর চেয়ারম্যান

0
77

প্রতি বছর রাজস্ব আয় বাড়লেও দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় এর হার খুবই কম—এ মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তার ভাষায়, আফ্রিকার দেশ উগান্ডার জিডিপির তুলনায় রাজস্বের হার সাড়ে ১২ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশ সে তুলনায় আরও পিছিয়ে।

মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব ভবনে ভ্যাট সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা অনেক সময় উগান্ডাকে নিয়ে হাসাহাসি করি। কিন্তু জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণে আমাদের অবস্থান উগান্ডার চেয়েও খারাপ। রাজস্ব আয় বাড়ানো ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই।”

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “জিডিপির কোন অংশ থেকে রাজস্ব আদায় করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে আমাদের গবেষণা করতে হবে। আমাদের ভ্যাট ও আয়কর থেকে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে। আয় বাড়াতে না পারলে আমরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ব। পরিবারের আয় না বাড়লে যেমন ঋণের বোঝা বাড়ে, রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক তেমনি।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতেই হবে। তবে কোনো ধরনের জোর-জবরদস্তি বা জুলুম করে আমরা আদায় করতে চাই না। যারা কর দেয় না, তাদের করের আওতায় আনতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে ভ্যাট সপ্তাহ, যা চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘সময়মতো নিবন্ধন নিব, সঠিকভাবে ভ্যাট দিব।’

নিবন্ধনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ১০ ডিসেম্বর থেকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে বিশেষ নিবন্ধন ক্যাম্পেইন পরিচালনা করবে এনবিআর। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নতুন করে এক লাখ প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনার টার্গেট ধরা হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “বর্তমানে বহু প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধনের আওতার বাইরে আছে। সঠিক সংখ্যা আমাদের হাতে নেই, তবে নিবন্ধন করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যার চেয়ে প্রকৃত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক বেশি।”

চলতি অর্থবছরে অতিরিক্ত ৫৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবদুর রহমান খান বলেন, “রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা এনবিআরের জন্য সব সময়ই চ্যালেঞ্জিং। লক্ষ্যমাত্রা যত বাড়বে, চ্যালেঞ্জও তত বাড়বে। সে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা কাজ করছি।”

তিনি জানান, কর ফাঁকি রোধে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। “এনবিআরের সব গোয়েন্দা ইউনিটকে এই বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা অনেক কর ফাঁকি উদ্‌ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি, ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম আরও জোরদারভাবে চলবে,” বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান।