ভারতের গুজরাটের ভারুচ জেলা পুলিশের লোকাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ (এলসিবি) এবং স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপের (এসওজি) যৌথ অভিযানে একটি দেহ ব্যবসা চক্রের পর্দাফাঁস হয়েছে। এই অভিযানে ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ১৪ জন নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ভারুচ জেলা পুলিশ শনিবার জানিয়েছে, তারা অবৈধ অভিবাসী সংশ্লিষ্ট একটি দেহব্যবসা চক্রের পর্দাফাঁস করেছে এবং ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও পশ্চিমবঙ্গের দুইজন সহ মোট ১৪ জন নারীকে উদ্ধার করেছে।
এই ঘটনায় চারজন পুরুষকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা অবৈধ অভিবাসীদের সহায়তাকারী এজেন্টদের নেটওয়ার্কের অংশ বলে অভিযোগ রয়েছে।
অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের সন্ধানে ভারুচ জেলা পুলিশের এলসিবি এবং এসওজির একটি যৌথ অভিযানের সময় এলসিবি পুলিশ পরিদর্শক এম পি ভালা একটি গোপন তথ্য পান। তথ্যটি ছিল ফারুক শেখ নামে একজন বাংলাদেশি এজেন্টের সম্পর্কে। অভিযোগ অনুযায়ী, সে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের জেলায় বসতি স্থাপনে সহায়তা করত। সে বিউটি পার্লার বা গৃহকর্মী হিসেবে চাকরির লোভ দেখাতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফারুক শেখ নারীদের দেহ ব্যবসায় ঠেলে দিত এবং তাদেরকে জাম্বুসারে তার বাড়িতে আটকে রাখত। সেখান থেকে এই পতিতালয়টি পরিচালিত হত।
পুলিশ জানিয়েছে, নারীদের ভারুচ এবং আঙ্কেলেশ্বরের স্পাগুলোতে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, “এদের মধ্যে তিনজন নারী ভারুচের নাজিম খান পরিচালিত ‘মুসকান স্পা’-এ কাজ করত, তিনজন ভারুচের রইস শেখ পরিচালিত একটি গেস্ট হাউসে কাজ করত এবং চারজন নারীকে সুজিতকুমার পরিচালিত আঙ্কেলেশ্বরের একটি স্পাতে পাঠানো হয়েছিল।”
যৌথ পুলিশ দল তিনটি স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০ জন নারীকে উদ্ধার করে, আর চারজনকে শেখের বাড়িতে পাওয়া যায়।
পুলিশ দাবি করেছে, “ফারুক শেখকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রকাশ করে যে, সে নিজেও বাংলাদেশ থেকে একজন অবৈধ অভিবাসী হিসেবে ভারতে গিয়েছিল এবং পশ্চিমবঙ্গে ভুয়া পরিচয়পত্র ও জন্ম সনদ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিল। সে এক দশক ধরে গুজরাটের বিভিন্ন শহরে বসবাস করছিল। সে বাংলাদেশি এজেন্টদের নেটওয়ার্ক এবং তার আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে বাংলাদেশি নারীদের ভারতে প্রলুব্ধ করত। সে তাদের বিউটি পার্লার এবং গৃহকর্মী হিসেবে চাকরির প্রস্তাব দিত…।”
পুলিশ জানিয়েছে, ফারুক শেখ নাকি আরও স্বীকার করেছে, সে ৬০ জন বাংলাদেশি নারীকে অবৈধভাবে ভারতে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছে।
“সে আরও স্বীকার করেছে যে তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ১২ জন ছাড়াও, সে এজেন্টদের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গোয়া, মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থানের মতো অন্যান্য রাজ্যে অন্যান্য বাংলাদেশি নারীদের বসতি স্থাপনে সহায়তা করেছিল,” দাবি পুলিশের।
পুলিশ জানায়, অভিযানকালে মোবাইল ফোন এবং ৬৪,০০০ টাকা ছাড়াও বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিচয়পত্রও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত চারজন পুরুষ হচ্ছেন শেখ, নাজিম খান, রইস শেখ এবং সুজিতকুমার ঝা। তাদের বিরুদ্ধে ইম্মোরাল ট্র্যাফিক (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট, ১৯৫৬-এর বিভিন্ন ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।