বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
র্যাব জানায়, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাচেষ্টা মামলায় তারা গুরুত্বপূর্ণ আসামি।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে র্যাব জানতে পেরেছে, চার সন্তানের মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদ তৃতীয়। রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় তার বোন মোসা. জেসমিন আক্তারের সপ্তম তলার বাসায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী: ঘটনাদিন রাতে ফয়সাল একটি ব্যাগ নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন। পরে ভবনের চিপা দিয়ে কালো রঙের ব্যাগটি নিচে ফেলে দেন এবং ভাগনে জামিলকে (১৮) দিয়ে ব্যাগটি আবার উপরে তুলিয়ে নেন। ঘটনার পর নিজের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের একটি তিনি বাসার ছাদ থেকে ফেলে দেন। অপর মোবাইলটি তিনি তার মা মোসা. হাসি বেগমের হাতে তুলে দেন। এরপর তিনি বাবা–মায়ের সঙ্গে দেখা করেন।
র্যাব আরও জানায়, নিজেকে নিরাপদ মনে না হওয়ায় ফয়সাল আগারগাঁও ছেড়ে প্রথমে মিরপুর এবং পরে শাহজাদপুরে তার বাবা হুমায়ুন কবিরের ভাতিজা আরিফের বাসায় চলে যান। এ সময় ফয়সালের ব্যবহৃত ব্যাগ বহনের জন্য তার বাবা একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে দেন এবং কিছু টাকা দেন বলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
পরে তারা কেরাণীগঞ্জে ফয়সালের ছোট ভাই হাসান মাহমুদ বাবলু ওরফে রাজের বাসায় অবস্থান নেন এবং জুরাইন এলাকা থেকে দুটি নতুন মোবাইল সিম কিনে ব্যবহার করতে থাকেন।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মা–বাবাকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় রিকশায় যাওয়ার সময় শরীফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। এই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং মূল শুটার ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।