খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ‘প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা’ হলেন ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম

0
54

ময়মনসিংহের নান্দাইলের কৃতী সন্তান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নান্দাইলসহ এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও আনন্দের সঞ্চার হয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম ওরফে ‘সূর্য’র বাড়ি নান্দাইল উপজেলার চারআনিপাড়া গ্রামে। তিনি মরহুম এ এফ এম ইসহাকের ছেলে এবং সাত ভাই ও তিন বোনের মধ্যে ষষ্ঠ। ছোটবেলা থেকেই তিনি এলাকায় একজন সজ্জন ও গ্রহণযোগ্য মানুষ হিসেবে পরিচিত।

শিক্ষাজীবন ও সামরিক ক্যারিয়ার
তিনি আল-আজহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে চণ্ডীপাশা উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন। অষ্টম শ্রেণিতে ময়মনসিংহ জেলায় প্রথম হয়ে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করেন।

পরে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডে মেধাতালিকার শীর্ষস্থান অর্জন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি লাভ করেন। ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে মাস্টার্স ইন ডিফেন্স স্টাডিজ সম্পন্ন করেন।

ফিলিপাইন ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করে স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে প্রথম শ্রেণিতে মিলিটারি টেকনোলজিতে মাস্টার্স এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে বাংলাদেশের নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি বিষয়ে দেশের প্রথম ডক্টরেট (PhD) ডিগ্রি অর্জন করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২১তম বিএমএ লং কোর্সের মাধ্যমে কোর অব আর্টিলারিতে ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি কমিশনপ্রাপ্ত হন। সামরিক একাডেমিতে শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট হিসেবে ওসমানী গোল্ড মেডেল পান।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বিশেষ দক্ষতা
বাংলাদেশ, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, চীন, ফিলিপাইন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ সাতটি দেশে বিশেষ সামরিক ও কৌশলগত পেশাগত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। দেশে–বিদেশে স্টাফ কলেজ ও গানারি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করে বিরল কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ, মানবাধিকার, শান্তিরক্ষা, কনফ্লিক্ট রেজোলিউশন ইত্যাদি বিষয়ে তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কঙ্গোতে ফোর্স কমান্ডারের স্টাফ অফিসার ও ডেপুটি কন্টিনজেন্ট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এক পর্যায়ে কঙ্গোর জনগণ তাকে প্রেসিডেন্ট করার দাবিতে মিছিলও করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

ইরাকে প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ ও উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সে দেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের গণতন্ত্র, সুশাসন, মাইগ্রেশন গভর্ন্যান্স, সিভিল সোসাইটি ট্রেনিং ও কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তিনি।

এছাড়া ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে (আইইউবি) অ্যাডজাংক্ট প্রফেসর হিসেবে শিক্ষকতার দায়িত্বও পালন করেছেন। গণতন্ত্র, রাজনীতি, গবেষণা, নীতি–প্রণয়ন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বিএনপির নতুন ঘোষিত এ ‘প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা’ হিসেবে তিনি কীভাবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠন ও পরিচালনা করবেন—এ নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।