আওয়ামী লীগের গত ১৫ বছরের শাসনামলে ডিজিএফআইয়ের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) ২৬ জনকে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারেক আহমেদ সিদ্দিকী এবং ১১ সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্য দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে আজকের দিন আদেশের জন্য ধার্য করা হয়েছিল।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে জানান, জেআইসি সেলে শতশত মানুষকে বন্দি করে নির্যাতন করা হয়েছে। আব্দুল্লাহ হিল আমান আজমী, মাইকেল চাকমাসহ ২৬ জন নির্যাতনের পর মুক্তি পেয়েছেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, সব গুমের নির্দেশনা দিতেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তা সেনা কর্মকর্তাদের দিয়ে বাস্তবায়ন করতেন তারেক আহমেদ সিদ্দিকী। শুনানিতে ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত গুম হওয়া ২৬ জনের ঘটনার বিবরণ উপস্থাপন করা হয়।
পরে শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন, তবে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেননি।
এই মামলায় মোট ১৩ জন আসামি। এর মধ্যে তিনজন গ্রেপ্তার রয়েছেন— ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকীG
শেখ হাসিনাসহ পলাতক বাকি আসামিরা হলেন— মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিক (সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা), লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন (সাবেক ডিজি, ডিজিএফআই), মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন (সাবেক ডিজি), লে. জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম (সাবেক ডিজি), লে. জেনারেল তাবরেজ শামস চৌধুরী (সাবেক ডিজি), মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক (সাবেক ডিজি), মেজর জেনারেল তৌহিদুল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ, লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক।
গত ২৩ নভেম্বর পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল। শেখ হাসিনা স্বেচ্ছায় আত্মপক্ষ সমর্থনে আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করলে তার পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্নাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ৩ ডিসেম্বর সরে দাঁড়ালে পরে মো. আমির হোসেনকে শেখ হাসিনার আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
গত ২২ অক্টোবর গ্রেপ্তার তিন সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের হাজির করতে সাত দিনের মধ্যে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।