‘ভেনেজুয়েলার তেল আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ’—ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা মিলার

0
44

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল আসলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির তেলশিল্প জাতীয়করণকে তিনি সরাসরি “চুরি” আখ্যা দিয়েছেন। খবর আল জাজিরার।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মিলার লেখেন, আমেরিকানদের “ঘাম, মেধা ও শ্রম” দিয়েই ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প দাঁড়িয়ে উঠেছিল। তার বক্তব্য, এই শিল্পের জাতীয়করণ ছিল “আমেরিকার সম্পদ ও সম্পত্তির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরি”। মিলার আরও দাবি করেন, ওই “লুট করা সম্পদ” পরে সন্ত্রাসে অর্থ জোগাতে, খুনি–ভাড়াটে যোদ্ধাদের সহায়তা করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় মাদক ছড়িয়ে দিতে ব্যবহার করা হয়েছে।

তার এমন মন্তব্যে প্রশ্নের মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই সরকারি অবস্থান, যেখানে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপগুলোর প্রধান কারণ হিসেবে মাদক পাচার ও “নার্কো–টেরোরিজম” ইস্যুকে সামনে আনা হচ্ছিল। সমালোচকদের মতে, মিলারের বক্তব্যে পরিষ্কার হচ্ছে, ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণই আসলে সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনে ‘প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর স্থায়ী সার্বভৌমত্ব’ নীতিমতে ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে থাকা তেল ভেনেজুয়েলারই সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কয়েকটি কোম্পানি সেখানে অনুসন্ধান ও উত্তোলনে যুক্ত থাকলেও, মালিকানা ভেনেজুয়েলারই হিসেবে বিবেচিত হয়।

আল জাজিরার তথ্যমতে, ১৯৭৬ সালে ভেনেজুয়েলা আনুষ্ঠানিকভাবে তেলখাত জাতীয়করণ করে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পিডিভিএসএ (PDVSA)-র অধীনে আনে। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে বামপন্থী প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ বাকি বিদেশি তেল প্রকল্পগুলোও জাতীয়করণ করেন। এতে কনোকোফিলিপস ও এক্সন মোবিলের মতো মার্কিন তেল জায়ান্টদের কার্যত দেশ ছাড়তে হয়।

এই জাতীয়করণের বিরোধিতা করে মার্কিন কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক সালিশি ট্রাইব্যুনালে যায়। ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সালিশি ট্রাইব্যুনাল এক্সন মোবিলের পক্ষে রায় দিয়ে ভেনেজুয়েলাকে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলে। এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি পিডিভিএসএ’র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা দেশটির জ্বালানি খাতকে মারাত্মক চাপে ফেলে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ বা ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতিকে আরও জোরদার করেন ট্রাম্প।

এই প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলার তেলবাহী সব ট্যাংকারের ওপর অবরোধ আরোপ করা হবে এবং সেগুলোকে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তালিকায় রাখা হবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া পোস্টে তিনি স্টিফেন মিলারের সুরেই বলেন, ভেনেজুয়েলা “যুক্তরাষ্ট্রের তেল চুরি করেছে।”

এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক আরও তপ্ত হওয়ার পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভেনেজুয়েলার তেলের মালিকানা ও ব্যবহারের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।