ওসমান হাদির মৃত্যুতে জাতিসংঘের গভীর উদ্বেগ: দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান

0
31

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এই হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত, নিরপেক্ষ, পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং একটি স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

জেনেভা থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক দেশে শান্তি বজায় রাখা এবং এই ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

জাতিসংঘের উদ্বেগ ও আহ্বান বিবৃতিতে ফলকার তুর্ক বলেন, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। গত সপ্তাহে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যু হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি সবাইকে শান্ত থাকার এবং সহিংসতা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।

হাইকমিশনার সতর্ক করে বলেন, “প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতা কেবল সামাজিক বিভেদকে আরও গভীর করবে এবং সবার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করবে।” তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে হাদির মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে কার্যকর আইনি প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

নির্বাচন ও জননিরাপত্তা বিবৃতিতে ফলকার তুর্ক আরও উল্লেখ করেন যে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে সরকারকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন শরিফ ওসমান বিন হাদি। রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়, যা সরাসরি তার মাথায় লাগে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সরকারি উদ্যোগে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে (এসজিএইচ) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।