সিঙ্গাপুর থেকে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মরদেহ দেশে আনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, মরদেহের আগমন উপলক্ষে অনাকাঙ্ক্ষিত জনসমাগম ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিমানবন্দর জুড়ে তিন স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এভসেকের পাশাপাশি বিমান বাহিনীর কুইক রেসপঞ্জ ফোর্স এবং বাইরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) মোতায়েন থাকবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরের প্রধান গেট ও সিভিল এভিয়েশন গেট এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, নিরাপত্তা ব্যারিকেড অতিক্রম করে কেউ ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে এবং নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের অপারেশন কমান্ডার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক জানান, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি কুইক রেসপঞ্জ টিম (সিআরটি), ডগ স্কোয়াড এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয় নগরে জুমার নামাজের পর সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান শরীফ ওসমান হাদি। প্রথমে দেশে এবং পরবর্তীতে সরকারি উদ্যোগে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর সংবাদে দেশজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে দেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এমতাবস্থায় মরদেহের আগমনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিমানবন্দরে এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।