ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা শরিফ ওসমান হাদির অকাল মৃত্যুতে আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সারাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়ে দীর্ঘ এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেছেন এই তরুণ নেতা।
রাষ্ট্রীয় শোক উপলক্ষে আজ দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন।
বর্তমানে শহীদ ওসমান হাদির মরদেহ জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আগামীকাল রোববার (২১ ডিসেম্বর) বেলা ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
জানাজায় অংশগ্রহণে আগ্রহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো প্রকার ব্যাগ বা ভারী বস্তু বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় যেকোনো ধরনের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
দাফন হবে জাতীয় কবির পাশে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে জুলাই জজবার প্রাণ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অকুতোভয় বীর শরিফ ওসমান হাদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে অংশ নেওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সরকারি উদ্যোগে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়।