ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার রাতে ভালুকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের পরিচালক নাঈমুল হাসান নতুন করে তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—আজমল হাসান সগীর (২৬), শাহিন মিয়া (১৯) ও মো. নাজমুল। এর আগে এই ঘটনায় তারেক হোসেন, লিমন সরকার, মানিক মিয়া, এরশাদ আলী, নিঝুম উদ্দিন, আলমগীর হোসেন ও মিরাজ হোসেন আকনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
র্যাব জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কটূক্তির অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাসের সাথে কারখানার ভেতরে শ্রমিকদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ফ্যাক্টরির ফ্লোর ম্যানেজার আলমগীর তাকে জোরপূর্বক চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত না করে দিপুকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। উন্মত্ত জনতা দিপুকে পিটিয়ে হত্যার পর গাছের ডালে বেঁধে তার লাশে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং অর্ধপোড়া মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তা নাঈমুল হাসান বলেন, অভিযুক্তরা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে হত্যার পর লাশে আগুন দেওয়ার মতো বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।