বিপ্লবীদের খুন করে বিপ্লবের চেতনা দমানো যায় না: জামায়াত আমির

0
35

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির দুশমনেরা কার্যত বাংলাদেশেরই দুশমন। তিনি বলেন, “হাদিরা বাংলাদেশের পক্ষে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের পক্ষে ছিল। হাদিরা আপন সংস্কৃতির কথা বলতো। হাদিদের উচ্চারণ ছিল অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে। বিপ্লবীদের খুন করে বিপ্লবের চেতনা দমানো যায় না।”

রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির আরও বলেন, “এই দেশ, এই জাতি আমাদের; দেশ এবং জাতির পাহারাদারি আমাদেরই করতে হবে। কোনো কালো চিলকে আমাদের ভাগ্যে আর চুরমারের সুযোগ দেব না। এটাই ছিল তাদের অঙ্গীকার। তারা বলেছিল জীবন দেব তবুও ‘চব্বিশ’ দেব না। এটা কেন বলেছিল আমরা সবাই বুঝি। এটাই তাদের অপরাধ?”

তিনি দাবি করেন, হাদিরা কারো দিকে অন্যায়ের হাত বাড়ায়নি বা কারোর ওপর জুলুম করেনি। হাদি আজীবন ইনসাফের কথা বলেছেন। এমনকি এটাও বলেছেন যে, তিনি কোনো শত্রুর ওপরেও বেইনসাফি করতে চান না এবং কেউ বেইনসাফি করুক সেটাও তারা দেখতে চান না।

“বিপ্লবের চেতনাকে খুন করা যায় না” উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা বিপ্লবী তাদের খুন করে বিপ্লবের চেতনাকে খুন করা যায় না। বরঞ্চ সেই চেতনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, গতকালকের জানাজা সারা দুনিয়া প্রত্যক্ষ করেছে এবং আমরা মনে করি সারা দুনিয়ায় মানুষ জানাজার সঙ্গে মানসিকভাবে সম্পৃক্ত ছিল।

হাদির খুনের বিষয়ে সরকারের তদন্ত কাজের উপর জনগণ অসন্তুষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের দাবি আশা করি প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা মণ্ডলী সেখানে (হাদির জানাজা নামাজ) উপস্থিত ছিলেন, তারা বুঝতে পেরেছেন। তিনি অতি দ্রুত সমস্ত সন্দেহ-সংশয়ের বাইরে এসে খুনিদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি খুনিরা পার পেয়ে যায়, তাহলে জনগণসহ আর কারো জীবন নিরাপদ করা যাবে না।