ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের রেশ না কাটতেই আবারও তেহরানে হামলার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এই নতুন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরবেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই গত জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে চলা যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে খোদ দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’।
এতদিন ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ কার্যকর দাবি করে আসলেও ‘কান’-এর প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়েছে যে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হলেও যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের ‘সফল’ প্রমাণ করতে সেসব তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হয়েছিল। ফলে ইসরায়েলের সাধারণ মানুষ যুদ্ধের প্রকৃত ভয়াবহতা সম্পর্কে অন্ধকারে ছিল। সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কেবল আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য এবং এটি নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই।
পূর্বের যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৩ জুন পারমাণবিক আলোচনার চলাকালীন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিমূলক আক্রমণের মাধ্যমে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ১২ দিনের সেই যুদ্ধে ইরানের এক হাজার ৬৪ জন প্রাণ হারান, যার মধ্যে সামরিক কমান্ডার ও বিজ্ঞানীও ছিলেন। জবাবে ইরান ইসরায়েল অধিকৃত ভূখণ্ড এবং কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। পরবর্তীতে ২৪ জুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এই সংঘাত ইসরায়েলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনে।
হিসাব অনুযায়ী, এই ১২ দিনের যুদ্ধ ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও ব্যর্থ সামরিক অভিযান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এতে ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে প্রত্যক্ষ সামরিক ব্যয় ১২.২ বিলিয়ন ডলার এবং অবকাঠামোগত পুনর্গঠনে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। বিশাল এই অর্থনৈতিক বোঝা, বাজেট ঘাটতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটের মুখে শেষ পর্যন্ত তেল আবিব যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য হয়। বিশারদদের মতে, ইরানের মুখোমুখি হওয়ার জন্য ইসরায়েলের ২০ বছরের সামরিক পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।