ভয়হীন পরিবেশে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

0
31

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভয়হীন ও মুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি নির্বাচন চায় যেখানে কোনো ভয় বা বাধা থাকবে না এবং কেবল জনগণের মুক্ত ও নির্ভীক মতপ্রকাশ প্রতিফলিত হবে। সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘ভোটের গাড়ি’ শীর্ষক প্রচারণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। মূলত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০২৬ সালের গণভোট সামনে রেখে ভোটারদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতেই নির্বাচন কমিশন এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে ভোটারদের সচেতন হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এ দেশের মালিক মূলত জনগণ এবং আগামী পাঁচ বছর দেশ কে চালাবে সেটি ভোটারদেরই ঠিক করতে হবে। তাই সৎ ও যোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান তরুণ সমাজ, নারী ভোটার এবং যারা প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন তাদের প্রতি। নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে এসে প্রশ্ন করতে এবং ভালোমতো চিন্তা-ভাবনা করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি। অধ্যাপক ইউনূস মনে করেন, ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্তেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

ভোটারদের সচেতন করতে যাত্রা শুরু করা ১০টি বিশেষ ‘সুপার ক্যারাভান’ বা ভোটের গাড়ি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ক্যারাভানগুলো কেবল গাড়ি নয় বরং গণতন্ত্রের আনন্দ বাণী বহনকারী বহর। এই গাড়িগুলো দেশের ৬৪টি জেলা ও ৩০০টি উপজেলায় মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে নির্বাচন ও গণভোট সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দেবে। এটি প্রতিটি নাগরিককে মনে করিয়ে দেবে যে তাদের একটি ভোট কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং নিষ্ক্রিয়তা নয় বরং সক্রিয় অংশগ্রহণই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে তোলে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে ভোটারদের আরেকটি বড় দায়িত্ব হচ্ছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর গণভোটে অংশ নেওয়া। প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে দীর্ঘ নয় মাস ধরে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এই সনদ প্রস্তুত করা হয়েছে। এই সনদ দেশের ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও স্থিতিশীল করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি সনদের পক্ষে নাগরিকদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

অধ্যাপক ইউনূস তাঁর ভাষণের শেষে মনে করিয়ে দেন যে ভোটাধিকার কোনো দয়া নয় বরং এটি নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই দেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারিত হয়। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয় বরং এটি রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। দেশের সুন্দর ভবিষ্যৎ ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নির্ভয়ে ভোট দিতে এগিয়ে আসার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক এই যাত্রাকে সফল করতে তিনি দেশের আপামর জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুরোধ জানান।