সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্সের সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও নদীতীরবর্তী এলাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান গ্রহণ করা হয়। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলার রাংপানি এলাকায় ক্যাপ্টেন রশিদ স্কুল ও কলেজের পেছনে অবস্থিত নদী অংশে অভিযান পরিচালনা করেন জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি পলি রানী দেব। অভিযানে দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাংপানি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল, যা আশপাশের কৃষিজমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুতর ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে।
এ সময় অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে আলমগীর ও আব্দুল হক নামের দুই ব্যক্তিকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একজনকে এক মাস এবং অপরজনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার ভূমি পলি রানী দেব রাংপানি কলেজের পেছনের নদীতীরবর্তী এলাকা এবং কেন্দ্রী গ্রামের আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি পরিদর্শন করেন। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট ভাঙন ও ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণরূপে বন্ধে নির্ধারিত স্থানে লাল নিশানা স্থাপন করা হয়।
অভিযান চলাকালে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ, ভূমি অফিসের কর্মকর্তাগণ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধীন শ্রীপুর বিওপির একটি টিম উপস্থিত থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদান করে। সমন্বিতভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পুরো অভিযান শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
টাস্কফোর্সের অভিযানে নেতৃত্বদানকারী সহকারী কমিশনার ভূমি পলি রানী দেব জানান, স্কুলের পেছনের নদী এলাকা এবং ফসলি জমির ভাঙনকবলিত অংশে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে স্পষ্টভাবে লাল নিশানা স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ওই স্থান থেকে পুনরায় বালু উত্তোলনের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।