বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘ন্যাটো স্টাইলে’ প্রতিরক্ষা চুক্তির গুঞ্জন: ভারতের উদ্বেগ তীব্র

0
42

আগামী নির্বাচনের আগেই ভারতের দিকে নজর রেখে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের চুক্তির ন্যায় ‘ন্যাটো স্টাইলে’ পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে গুঞ্জন তীব্র হয়েছে, দাবি করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

ভারতীয় গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইএসআই প্রধানসহ পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ঘন ঘন বাংলাদেশ সফর করছেন। ইন্ডিয়া টুডে মনে করছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনুকূল সরকারের অধীনে নির্বাচনের আগেই পাকিস্তান এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষর করতে আগ্রহী। এই তৎপরতা কারণহীন নয়। ভারতের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এখন একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা ভাবছে, যা অনেকটা সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের করা চুক্তির মতো হতে পারে।

গত সেপ্টেম্বরে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে সৌদি আরব, যার ভাষা ছিল— “যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণ উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।” পাকিস্তানে এই চুক্তিটিকে ভারতের বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পাক-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন রসায়ন

গুঞ্জন উঠেছে, পাকিস্তান এখন তাদের নতুন মিত্র বাংলাদেশের সাথে একই ধরনের ‘ন্যাটো-স্টাইল’ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করতে চাচ্ছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর এটিই হবে এ ধরনের প্রথম কোনো ব্যবস্থা। ইন্ডিয়া টুডে বলছে, প্রস্তাবিত এই চুক্তি নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে, কারণ আগামী দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তাই পাকিস্তান চাইছে বর্তমান ইউনূস সরকারের অধীনেই এই চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন করতে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই দেশ ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া তৈরির জন্য একটি যৌথ মেকানিজম বা ব্যবস্থা গঠন করেছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সামরিক মহড়া আয়োজনের পথ প্রশস্ত করবে বলে দাবি করা হয় প্রতিবেদনে। তবে এই চুক্তিতে পারমাণবিক সহযোগিতার কোনো বিষয় থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। যদি তা অন্তর্ভুক্ত থাকে, তবে তা নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হবে।

নির্বাচনের আগেই চুক্তি চায় পাকিস্তান

ইন্ডিয়া টুডে বলছে, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অস্থিরতা এবং শরীফ উসমান হাদির হত্যার পর সৃষ্ট ভারত-বিরোধী মনোভাব পাকিস্তানকে এই প্রতিরক্ষা চুক্তির জন্য একটি শক্ত ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দলের এক নেতা দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সামরিক জোটের দাবি জানিয়েছেন, যা এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। পাকিস্তান মুসলিম লীগ নেতা কামরান সাইদ উসমানি বলেন, “যদি ভারত বাংলাদেশে আক্রমণ করে, তবে পাকিস্তান পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঢাকার পাশে দাঁড়াবে।” তিনি যুক্তি দেন যে, পাকিস্তান-বাংলাদেশ সামরিক অংশীদারিত্ব এই অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দেবে।

ভারত এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে আইএএনএস-এর মতে কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। যদি এমন কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে তা ভারতের পূর্ব সীমান্তে একটি বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।